Walton

মৌসুমীদের শাদা বাড়ি

টুটুল রহমান

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৪৩ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৪৫

টুটুল রহমান | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৪৩

UCBL

মৌসুমীদের শাদা বাড়ি/ শিল্পী : হাজ্জাজ তানিন

মৌসুমীদের শাদা বাড়ি

মৌসুমীদের শাদা বাড়িতে
রোজ সন্ধ্যা নামায়
মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।

সুনীল হাঁটে, হেলাল হাফিজ
মগ্ন কবিতার খাতায়।

আমিও মলাটবদ্ধ করি প্রেম
নি:সঙ্গ গোলাপকবিতা।
নোনা দেয়ালে দেয়ালে জীবনানন্দ দাশ।

দূর নীলিমার নক্ষত্র

বহুবার দূরে সরে গেছি
বহুদিন।
সন্ধ্যার স্তদ্ধতা নিয়ে আকাশে ছড়িয়েছি
বিষন্ন বেদনা।
তুমি তো তাকালেই না।
তবুও ভালোবাসা গ্রহের মতো, তোমাকে প্রদক্ষিণ করে
তোমাকে।

তুমি দূর নীলিমায় নক্ষত্র কোনো।
মৌসুমী, আজো তুমি দূর নীলিমায় নক্ষত্র কোনো...


শিরিন-শিউলি কটেজ

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নক্ষত্রের নিচে প্রবাহিত
নদীর পাশে বসে তুমি আমি একদিন
সংসারের নানা আহাজারি ফুটিয়েছিলাম
নীরপদ্মের মতো ; মনে পড়ে মৌসুমী?

একেলা দুপুরকে তুমি পায়ে জড়িয়ে
ঘুম ছড়াতে ছড়াতে আসতে।
তোমার প্রশান্তির ওড়না আজো উড়ছে
আমার নীলাভ আকাশে।

তারপর একদিন তোমার শব্দের কাজে বোনা
বাক্যের ব্যথিত নকশি কাঁথা
সযত্নে তুলে দিলে আমার হাতে
বিদায় সন্ধ্যার অন্ধকারে মুখ ডেকে গেছে আমার কান্নায়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নক্ষত্রের নিচে আজো প্রবাহিত উদ্ভ্রান্ত নদী
শিরিন শিউলী কটেজ।


কবি

তুমি বলেছিলে কবি হও
কবিরা মানুষ ভালোবাসে।


বিকেলবন্দি তিন নম্বর রেলগেট

তারপর অভিমানের মলাটবদ্ধ
কিশোরের দিকে তুমি তাকালে
তখন কিছু ছাই রঙ মেঘ
আকাশের ওপারে ওড়ে।

অত্যাসন্ন যৌবনে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর
তোমাকে কি একটা বলতে গিয়ে
রক্ত করবীর খোঁজে কোনো একদিন
স্বপ্রণোদিত নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

তাকে তুমি কোথাও খোঁজো না আর, মৌসুমী
আদ্র ঘাসের বিছানার আযিযুল হক কলেজের মাঠে
নতুন ভবনের সিঁড়ি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে
একদা ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট।
শেলী-কিট্স পড়া হলে পড় তোমার এলায়িত চুল
আঁধার ঘনায়ে আনে।

সেউজগাড়ি পেরুলেই একটা ঘুমন্ত নদী
ম্যান্ডোলিনের ঘোড়ার পিঠে রাত নামায়, সাতমাথায়
তোমার কি আর মনে পড়ে?
একদা বিকেলবন্দি ছিল তিন নম্বর রেলগেট
তোমার কি আর মনে পড়ে?

মেহের আলির চায়ের দোকান

মেহের আলি আজ কোথায় ঘুমিয়ে আছে, আমার ভেতরে
ওই যে চৌরাস্তার মোড়ে চায়ের দোকানদার, মেহের আলি।
তোমাদের শাদা বাড়িটা
পেন্ডুলামের মতো দুলতো যার চোখে
সকাল থেকে মধ্যরাত।

তখন অমলেন্দু বাবুর বাড়ির নিচতলা থেকে উঠে গেছে জলসাঘর
তখন সেটা মেসবাড়ি, তাসের শব্দে ঘুম ভাঙ্গা বেড়ালের চোখে
জ্বলে উঠে স্মৃতির বনেদি টর্চ
ততদিনে বন্ধু রঞ্জন হারিয়েছে প্রেমিকা ও আঙ্গুল।

তার চায়ের দোকানে কয়েকটা গোলাপ জমা রেখেছিলাম
২৫ বছর পর বয়সী বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে ভাবি
সমুদয় স্মৃতি ঘন হয়ে আসছে তার চায়ের কাপে

অথচ ,মেহের আলি কোথাও ঘুমিয়ে আছে,আমার ভেতরে
ভর সন্ধাবেলায় বর্ষার জল হওয়ায়।


ইন্দ্রজিৎ কবিতা লিখতে জানে না

তোমাকে দেখার পর ইন্দ্রজিৎ বলেছিলো
কমচে কম শখানেক কবিতা লেখা যেতে পারে একটা খাতা পেলে
তারপর সে কামারগাড়ি পেরিয়ে রোকেয়া হলের দিকে তাকিয়ে
তোমার রুম নম্বর মনে করতে করতে বোটানি ডিপার্টমেন্টে চলে গেলো
ধা চকচকে নতুন বিজ্ঞান ভবনে।
রূপসী মেয়েরা নাকি সেখানেই ভর্তি হয়েছিল সেবার।
রাত গভীর হলে লাবু ম্যানশনে আমাদের মাথার ভেতরের কুয়াশা জমে
আমরা পুরনো রেলস্টেশনে যাই। চা খাই। রেলওয়ে পুলিশ আমাদের
এটা ওটা জিজ্ঞেস করে।
আমরা হেঁয়ালি উত্তর দিয়ে কবি হয়ে উঠতে চাই
‘ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো অপরাধ আমরা জানি না।’
এই মধ্যরাতে মাতাল পুরুষ ভেবে হিজড়ারা আমাদের
তামাটে ঠোঁট টিপতে চেয়ে ইশ উশ করে।
তখনো মৌসুমীকে নিয়ে লেখা কবিতার প্রসঙ্গ আমরা ভুুলি নাই।
যাহ্। এই এতদিন পর এত কবিতার উদগিরণ শেষে
সে জানালো কোনো কবিতাই তার সম্পূর্ণ হয় নাই।
আমি আগেই বলেছিলাম
আমি ছাড়া তোমাাকে নিয়ে
আর কেউ কবিতা লিখতে পারবে না
ইন্দ্রজিৎ কবিতা লিখতে জানে না।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top