ঠুল্লো।। তালাশ তালুকদার।। তৃতীয় পর্ব | শিল্প-সাহিত্য | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি

ঠুল্লো।। তালাশ তালুকদার।। তৃতীয় পর্ব

তালাশ তালুকদার

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২১ ১৮:৩৭ আপডেট: ২৯ মে ২০২১ ২০:১৬

তালাশ তালুকদার | প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২১ ১৮:৩৭

UCBL

ড্রয়িং রনি আহমেদ/ অলংকরণে হাজ্জাজ তানিন

তিন.

নজরুলের পারিবারিক স্বচ্ছলতা বলতে যা বোঝায় তা তার পিতার একমাত্র উপার্জিত আয়টাকেই বোঝায়। আয় বলতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারি যেটুকু আয়। মাসে সর্বোচ্চ আট কিংবা দশ হাজার টাকার সেলারি দিয়ে চলে তাদের সংসার। এক সময় প্রচুর সম্পত্তি ছিলো নজরুলের বাবার। প্রচুর নামডাক ছিলো। যদি এখনো সে সম্পত্তি থাকতো তাহলে এই এলাকায় এমন কোনো মদ্দা নাই যে তার উপর কথা বলতো। কিন্তু নাই এখন সেটাই বাস্তবতা। ফলে, নজরুলের বাড়িতে কেউ ইচ্ছা করলেই উঠানে ঘুঘু চড়িয়ে আসতে পারে।

এদিকে নজরুল বিভিন্ন বাস্তবতায় সমাজের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে বেশ হিমশিম খায়। একটা টাইমে মিনি গার্মেন্টস ছিল তার। সেখানে ৫/৬ টা জাপানি সুজুকি মেশিনে শার্ট উৎপাদন করতো। এবং সে উৎপাদিত পন্য হোল সেলিং করতো উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। সেখান থেকে যা প্রোফিট হতো তার থেকে নিজের সহ কর্মচারি বিল পেমেন্ট দিয়ে চলতে পারতো।

কিন্তু এখন সে অবস্থা নাই। দেশের অর্থনৈতিক মন্দার সাথে সাথে নিজেরও মন্দাভাব শুরু হতে লাগলো। এখনো একই অবস্থা বিদ্যামান। এইখান থেকে কিভাবে পরিত্রান পাবে তা ভাবতে ভাবতে গলদগর্ম হয়।

এই ব্যবসাটা সে করেছিলো ঢাকায় থেকে ফেরত আসার পর। ব্যাংক লোন করে শহরে সে চারটি গার্মেন্টসের দোকান দিয়ে বসেছিলো। কিন্তু তার ব্যবসায়ী পার্টনারদের অসহযোগীতা আর অসততা থাকার কারণে ব্যবসাটাকে বেশিদুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি।

ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে দুইটা এনজিও ও একটা সরকারী ব্যাংক মামলা করে নজরুলের বিরুদ্ধে। বাড়িতে একের পর এক উকিল নোটিশ আসতে থাকে। কিন্তু কি করবে সে। ব্যবসা বানিজ্যে লস খেয়ে সে এখন পথে পথে ফেঁউয়ের মতো ঘোরে।

মাথা টাল খায়। চোখে ঝাপসা দেখে। নাক দিয়ে যা শুখে তা সবই শুটকির মতো গন্ধ লাগে। গন্ধে বমি আসার জোগাড় হয়।

এদিকে বসে থেকে থেকে শরীরে কোলেস্টোরেল মাত্রা বাড়তে থাকে। কাছের বন্ধুরা যারা ছিলো অর্থ্যাৎ যারা সুখের সময়ে বন্ধুরূপে আবির্ভূত হয়েছিলো তারা নজরুলকে দেখলেই সটকে পড়তো।

ভাবতো, কখন কি না কি জানি চেয়ে বসে। অথচ, ব্যবসা চলাকালীন সময়ে তাদের কাছে ধারকৃত টাকা যা পাবে তা ফেরত পেলেও অনেক উপকার হয়। কিন্তু তারা এ দুর্যোগের সুযোগে গা ঢাকা দিয়ে থাকে।

ভাবে, চৌদ্দ শিখোত্ উঠ নাক্যা। খুব তো ভাব মারাচ্চিলু, চোখে চশমা, হাতে ব্রেসলেট দিয়ে ঘুরিচ্চিলু। মনে হচ্চিলো কোটিপতির ব্যাটা!

একজন বলে, ব্যবসা করলে ট্যাকা দিনুহিনি। আবার মাল দে, ট্যাকা দিমু। ট্যাকা দিমু মাল নিমু। মাল দিব্যার পারিচ্চু নে, ট্যাকা দিমু ক্যাং করে। ব্যবসা না করলে কেউ কে ট্যাকা দেয়!

তাদেরকে যে টাকা ধার দিয়েছে তার কোনো ডকুমেন্টও নাই। মানে, স্ট্যাম্প, স্বাক্ষী কিংবা চেক কোনো কিছুই নেয়নি। শুধুমাত্র বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছে নজরুল। 

 

ব্যাক্তি নজরুল ও কাজের কাজি নজরুলকে সমালোচনা করার লোক অনেক আছে। তেমন ধরনেরই একজন বলে, ব্যাংকোত থেকে লোন করে উংকে ভাব মারে ঘোরাই যায়। ট্যাকা কামাই করে ঘুরলে পরে তালে বুঝনু হিনি উই বাপের ব্যাটা সাদ্দাম।

-ক্যা, একোন উংকে করিচ্চু কে, মাথা আচড়াচ্চু কে!

হায় রে, মনে করিচ্চিলো সব সময় ইংকেই যাবি।

মানুষোক এনাও মানুষ মনে করিচ্চিলো না।

হাদীসেই আছে, বেশি অহংকার করা ভালো লয়। যার অহংকার আছে তার পতন হবিই, হবি।

 

সে হাড়ে হাড়ে টের পায় বন্ধুত্ব বলে আসলে কিছুই নাই দুনিয়ায়। যা আছে তা গিভ এন্ড টেক। তুমি দিতে পারলে দুনিয়া তোমার। না দিতে পারলে রাস্তার কুকুরের যা মূল্য আছে তোমার তাও নাই। ফলে, তার সামনে বন্ধু বন্ধু শব্দ উচ্চারণ করলেই তাকে ঘৃণা করে নজরুল। ভাবে, এই বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে তার কি না কি জানি সর্বনাশ করতে এসেছে।    

যাই হোক এতোগুলো টাকা নজরুল কিভাবে পরিশোধ করবে; তার চিন্তায় মাথার চুল উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। রোদে, জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে তার গায়ের চামড়া পুরে পোড়া বেগুনের মতো হয়। দেখা হলেই লোকজন বলে, ক্যা বারে ইংকে হয়্যা গেছো ক্যা।

অথচ মাস খানিক আগেও কি নজরুল ভাবতে পেরেছিল তার এমন দুরবস্থা হবে?

পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই তাকে দেখে ভ্রু কুচকাবে? কুসন্নি লোক বলে অপবাদ দেবে?

না, নজরুলের মাথায় ভুলক্রমেও এসব আসেনি। সে সবসময় রিলাক্স মুডে থেকেছে- ব্যবসা বানিজ্য ও লেখালেখি করেছে।

তার কনফিডেন্টের মাত্রা এত হাই ছিলো যে, তার পা কোনোক্রমেই স্লিপ করবেনা। মানে, পা স্লিপ করার কোনো চান্সই নাই। বরং ব্যবসার মূলধন ১০ লাখ থেকে কোটির অংকে পৌঁছাবে, কোটি থেকে দেড় কোটি হবে।

তাহলে এতো কনফিডেন্ট থাকাটাই কি তার কাল হলো? কিংবা এমন কনফিডেন্টই বা সে কিভাবে পেলো?

কনফিডেন্ট হবে না কেনো? একটা ব্যাংকের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা বলেছে, নজরুলের ব্যাবসাতে যতো টাকা লাগবে ব্যাংক ইনভেস্ট করবে। ব্যাংক চায় প্রফিট। যে উদ্যোক্তার ভেতরে সম্ভাবনা আছে ব্যাংক তাকে ইনভেস্ট করবে।

এদিকে নজরুলের সোস্যাল রিপুটেশন ভালো থাকার কারণে সে তরতর করে এগিয়ে গিয়েছিলোও। তার কনফিডেন্টের মাত্রা বাড়ার আরো কারণ আছে। সেটাকে নজরুল আধ্যাত্মিক শক্তি মনে করে। সে গল্প ভিন্ন, আলাদারকমের।

একদিন দুপুর বেলায় নিজ কর্মস্থলে দুপুরের খাবার শেষে নজরুল ফুঁকে ফুঁকে সিগারেট টানছে। এমনি সময়ে এক পীরের মতন বয়স্ক মানুষ, এক হাতে তসবিহ্, আরেক হাতে নুহ আঃ এর মতো লাঠি, গাল ভরা সাদা দাড়ি, পড়নে পাঞ্জাবী পড়া লোকটা দোয়া কালাম পড়তে পড়তে নজরুলের সামনে হঠাৎ করে এসে উপস্থিত হয়।

সে নজরুলকে দেখামাত্রই বলে, পকেটে যা আছে তা দিয়ে দে। আশেপাশে কেউ নাই। বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খায় এবং এতে সে কি করবে না করবে এসব দোনোমোনো করতে করতেই সেই পকেটে হাত দিয়ে যা আছে তা পকেট থেকে নিয়ে নেয়। আর থুথু ছিটায় তার গায়ে। বলে, এটা জান্নাতের সুগন্ধি। ঘৃণা করিস ন্যা। আর বলে, এই টাকা দিয়ে মায়ের একটা শাড়ি কিনে দেবো। তুই মন খারাপ করিস না। এই কথা বলেই তার পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা আধখাওয়া আপেল বের করে তাতে কামড় বসাতে বলে।

আর বলে, এই আধখাওয়া আপেলটা তুই খেয়ে নে। এটা বেহেস্তি ফল। এই ফলটা খেলে তুই দুনিয়াতে যতোদিন বাঁচবি ততোদিনই বেহেস্তের মতো সুখ অনুভব করবি।

সে খাবে কি খাবে না এরকম করতে করতেই পেছন থেকে দরবেশ বাবা পিঠে একটা থাপা দিয়ে বলে, যাহ ব্যাটা- তোর কপালে সারাজীবনের সুখ লেখা আছে।

তুই অনেক ধনবান লোক হবি। এই দুনিয়াটা তোর জন্য বেহেস্তখানা হিসেবে আল্লাহ পাক নির্ধারণ করে রেখেছে।

সে কথা বলেই সে সামনের দিকে হাঁটতে বলে। তিন চার কদম সামনে যেতেই পিছনে তাকায়ে, দেখে সে হাওয়া হয়ে গেছে। এদিক ও দিক তাকায়াও কোথাও খুঁজে পায় না তাকে।

এ ঘটনাটা কাউকে বলেনা নজরুল। সে নিজে নিজে এনালাইসিস করতে থাকে। আজ যা ঘটলো তা কি আসলেই সত্যি হবে?

নজরুলের আত্মবিশ্বাস বাড়ার আরো একটা কারণ আছে তাহলো, সমাজে নজরুলের অনেক পরিচিতি আছে। যা ভেঙ্গে ভেঙ্গে খেলেও তার এক জনম কেটে যাওয়ার কথা। ফলে, নজরুলের কখনোই আত্মবিশ্বাসের অভাব হয় নাই।

যেখানে অন্যদের উপরে উঠার জন্য নানারকমের লড়াই সংগ্রাম করতে হয়। পলিটিক্যাল, ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট পেতে তাদের নানাধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করতে হয় সেখানে নজরুলের সবকিছুই অটোমেটিক তৈরি হয়েই থাকে। ফলে, নজরুলের কনফিডেন্টের লেভেল তো হাই-ই থাকার কথা।

তার উপরে তিন শক্তি- যথা

আধ্যাত্মিক শক্তি

পলিটিক্যাল শক্তি

অর্থনৈতিক শক্তি

সব শক্তিই তো নজরুল ক্যারি করে বসে আছে। তাহলে সে তার বিশ্বাস হারাবে কেনো?

এই কনফিডেন্ট দেখে কেউ যদি কোদ্দো করে বসে থাকে তাহলে তার মান ভাঙ্গানোর জন্য নজরুল বসে থাকবে না তো! কিংবা তার এ কনফিডেন্ট থাকার জন্য নজরুলের ভেতরে যারা অহংকার নামক বায়বীয় জিনিসটাকে অনুভব করে এবং নজরুলের পরাজয় হয়েছে মূলত তার এ অহংকারের কারণেই। এই বলে যারা অপবাদ দেয় কিংবা দিতে চায় তারা কি সত্যিই সত্যটাকেই ধারণ করা মানুষ?

অথচ নজরুলের মন তো সাদা। একদম সাদা। দুনিয়ার কূটকৌশল না বোঝাটাই কি নজরুলের পথে বসার কারণ?

হয়তো- কিংবা হয়তো না। এর উত্তর জানা নাই নজরুলের। শুধু সে বিশ্বাস করে আল্লাহ পাক মহা প্ল্যানার। সে মহাচিন্তক। সে মানুষকে ভাল রাখার জন্য কোথায় কখন কি গিফট করবে কেউ জানে না তা।

কে জানি এক সুহৃদ নজরুলকে দেখে বলেছিলো, ও যে মাপের মানুষ সেভাবে সে চলেনা- ভাব দেখায় না। অথচ নজরুলের মতো অন্য কেউ এমন যোগ্যতা ক্যারি করলে সে তো, মানুষকে মানুষ মনে করলোনা হিনি বারে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো নজরুল এখন প্রায় পথের ফকির। তার পকেটে সিগারেট খাওয়ার টাকাও থাকেনা মাঝে মধ্যে। তখন ধ্যান্দা মাছের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে অন্য মানুষের দিকে চায়্যা থাকা লাগে।

নজরুল ছাড়াও নজরুলের পরিবার ও নিকটাত্মীয় যারা তারা সবাই দুশ্চিন্তা করে নজরুলকে নিয়ে। এতগুলো টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে নজরুল?

এই ভাবনা থাকতে থাকতেই একদিন ওয়ারেন্ট জারি হয় নজরুলের নামে। থানা থেকে ফোন আসে এ এস আইয়ের। সে জানায় তার নামে একটা কাগজ আছে কোর্টে। এসে যেনো নিয়ে যায়।

নজরুল জানতে চায় মামলার বাদী কে? সে জানায় না। নজরুল ভুয়া মনে করে। যেহেতু কোর্ট থেকে জানাইতেছে তাহলে তো, নিশ্চিত বাদীর নাম বলবে।

একারণে এ সংবাদটিকে হেসেই উড়িয়ে দেয় নজরুল। মনে করে, এই দুঃসময়ে কেউ কেদারকি করিচ্চে তার সাথে।

কিন্তু না- একদিন সত্যি সত্যিই বাঘ এলো।

পুলিশ তাকে শহর থেকে গ্রেফতার করে থানার হাজতে ঢুকায়ে দিলো। অবশ্য হাজতে ঢুকানোর আগে তার কাছে থেকে এক লাখ টাকা ঘুষের দাবী করেছিলো।

সে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে হাজতে ঢুকতে হয়।

সে যে মামলায় গ্রেফতার হয় সে মামলাটা মাত্র ১০ হাজার টাকার মামলা। তাহলে সে কেনো ১ লাখ টাকা ঘুষ দেবে?

হাজতে ঢোকার আগে সে দুই একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফোন দিয়েছিলো যাতে এ থেকে উদ্ধার পায় কিন্তু তাদের সুপারিশ পুলিশ আমলে নেয় নাই।

নেবেই বা কেমন করে। ওয়ারেন্টের আসামীকে কেউ ছাড়াতে পারে? ওয়ারেন্টের আসামী ছাড়া পায় একমাত্র কোর্টের নির্দেশে। 

সে কি বিভৎস অবস্থা। হাজতে ঢুকে নানাপ্রকার লোকের সাথে পরিচিত হয় নজরুলের। কাউকে জুয়ার বোর্ড থেকে, কাউকে চোরাই মোবাইল রাখার অপরাধে, কাউকে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের অভিযোগে, কাউকে সন্দেহবশত মার্ডার কেসের আসামী দেখিয়ে গ্রেফতার করে থানায় এনেছে পুলিশ।

এতো লোকের মধ্যে গাদাগাদি করে কিভাবে থাকবে নজরুল তা ভেবে পায় না। এদিকে পরিবার থেকে, আত্মীয় স্বজন এবং দুই একজন বন্ধু বান্ধবরা খবর পেলে থানায় ছুটে আসে নজরুলকে দেখতে।

নজরুলের স্বজনেরা নেতৃত্বস্থানীয় হওয়ার কারণে বেশ সুবিধা পায় পরবর্তীতে।

থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জকে ধমকিয়ে বলে, ও মাডারের আসামী লয়, ড্রাগের আসামীও লয় তাহলে তাক ঐ লকাপে রাখছেন ক্যা?

ঐ লকাপের পাশেই বাথরুম। যা থেকে সুগন্ধি বের হয়, ঐখানে আবার সেন্ট্রিরা খাবার এনে দিলে ঐ দুর্গন্ধের ভেতরই খেতে হয়। সে এক অদ্ভুত পরিবেশ।

আমার পক্ষে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকের সুপারিশ যাওয়ার ফলে, পুলিশ বোঝে, সে ভাল ঘরের সন্তান, তার অন্যায় সামান্য। ফলে, হাজত থেকে বের করে নজরুলকে এস আইদের কক্ষে রাত্রিযাপনের জন্য রাখে। এবং পরেরদিন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে নজরুল।

এর আগে, রাতে, এস আইদের কক্ষে এস আইদের গোপন টাকার ভাগাভাগি- কে কিভাবে কাকে বেকায়দায় ফেলে এরেস্ট করে বেশি টাকা ঘুষ নিয়েছে- কোন হোটেলে ভাল ভাল মেয়ে দেহ ব্যবসা করতেছে নজরুল বসে বসে তাদের বাস্তবিক গল্প শোনে।

পরেরদিন সকালবেলায় ইয়াবাখোরকে হাঁটুর ভেতর ডান্ডা রেখে কারেন্ট শক দিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়া।

পুলিশের সোর্সদের আসামী সম্পর্কে খোজখবর নেয়া এসবের সবকিছুই নজরুলের চোখের সামনে ঘটতে থাকে।

পুলিশের টেবিলে রাখা আছে স্বাধীনতাকালীন পুলিশের ভূমিকা।

পুলিশ আইজিপির বাণী।

বইয়ের প্রথম পৃষ্টায় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রপতির ইয়াজ উদ্দীনের অভিনন্দন বাণী।

রাতে, আপেল- কমলা আর সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে একটানে কয়েক পৃষ্ঠা পড়া হলো।

 

পরের দিন ১৪ ই ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালবাসা দিবস। পুলিশের টেবিলে গোলাপের পাঁপড়ি যে বিছানো ছিলো তা কি পুলিশের পক্ষ থেকে নজরুলকে অভিবাদনের জন্য রাখা ছিলো?




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top