‘চা- রুটির দোকানের কিশোর শ্রমিক’ নজরুলের মৃত্যু দিনে | শিল্প-সাহিত্য | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
শিল্প-সাহিত্য

‘চা- রুটির দোকানের কিশোর শ্রমিক’ নজরুলের মৃত্যু দিনে

এ এইচ এম জহিরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২১ ১২:১৪ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২১ ১৫:২২

এ এইচ এম জহিরুল ইসলাম | প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২১ ১২:১৪


কাজী নজরুল ইসলাম

অত্যাচারী বৃটিশ শোষণের বিরুদ্ধে কলমের তরবারি চালিয়ে জেলে যাওয়া কবি তিনি। আবার যুদ্ধে যাওয়া হাবিলদারও ছিলেন। তার লেখাকে ভারত শাসন করা বৃটিশরা এত ভয় পেতো যে ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত তাঁর পাঁচটি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁর প্রথম নিষিদ্ধ বই- 'যুগবাণী'। ১৯২২ সালে ফৌজধারী বিধির ৯৩ ধারায় বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

আবার ১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তার সম্পাদিত 'ধুমকেতু' পত্রিকায় প্রকাশিত 'আনন্দময়ীর আগমনে'ও বাজেয়াপ্ত হয়। বৃটিশ রাজ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে নিয়ে যায়। অতঃপর ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি চিফ প্রেন্সিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহার্ন’র আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি যে জবানবন্দি দেন তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস 'রাজবন্দীর জবানবন্দি' হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। এই রাজবন্দী  আজীবন শোষিত মানুষের পক্ষ নিয়ে লিখে গেছেন কবিতা-গান। সমতার বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় তাঁর কবিতার আবেদন এখনো মর্যাদায় আসীন, অমলিন। তাই তিনি 'সাম্যের কবি'।

সাম্যের কবি ১৯২৬ সালে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। পল্লী কবি জসিম উদ্দিন তাকে পোলিং অফিসারের সামনে বসিয়ে দিয়েছেন যাতে কবির মুখ দেখে ভোটাররা তাকে ভোট দেন। ভোট শেষ হলে তিনি বলেন, বহু লোক তাকে ভোট দিয়েছেন লোকজনের মুখ দেখেই তা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু ভোটের ফল বেরোলে দেখা গেল তিনি পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে চতুর্থ স্থানে, ভোট পেয়েছেন ১০৬২। এখানেও যথারীত বাজেয়াপ্ত। 

ভোটের রাজনীতিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে রাজনীতির জটিল প্যাঁচ না বুঝেও মানুষের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। সরল মনের কবি ভোটের মাঠে জনগণের মনঃস্তত্ব বুঝতে পারেন নাই মোটেও। এবং শুধু কবিতা রচনা করে, সাহিত্য রচনা করে ভোটে জেতা যায় না তাও তিনি উপলদ্ধি করতে পারেন নাই ভোটে হারার আগে। তিনি তখন ভোটে জিতেন নাই সত্যি, কিন্তু তার সাথে যিনি জিতেছিলেন তার কথা মনে রেখেছেন কজন? হেরে যাওয়া কবিকে এখনো শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে পাঠক। এ বছর তার বিদ্রোহীর শতবর্ষ। ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এক বৈঠকে জাগরণের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা যখন তিনি লেখেন তখন তার বয়স মাত্র ২২ বছর।

রাজনীতির ভোটে হারলেও মানুষের মন জাগ্রত করতে ঠিকই জয়ী হয়েছেন তিনি। এখানেই কবিতার শক্তি, সাহিত্যের শক্তি। জীবনে যাপনে, প্রেমে-দ্রোহে এমনকি রাজনীতি, ভোটের মাঠে জ্বালাময়ী বক্তৃতায়, ভাষণে তার রচিত সাহিত্য, কবিতা উল্লেখ করা হয়। তার কবিতা পাঠ করে, উদ্ধৃতি দিয়ে ভোটের মাঠে কাজে লাগান রাজনীতিবিদরা।

আবার তিনি অ্যাকাডেমিকভাবে মাধ্যমিকের গন্ডিও পার হতে পারেন নাই। অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যে অধ্যয়নে তাকে দরকার হয়। তার জীবন নিয়েও রাজনীতি করা হয়। নানানভাবে ব্যাখ্যা  বিশ্লেষণ করা হয় তার জীবনের নানা আঙ্গিক ও দিক।

কেন তিনি বাসর রাতে পালিয়ে গিয়েছেন নতুন বৌ রেখে? যিনি মানবতার কথা বলেন, যিনি প্রেমের কথা বলেন, তার কি সেটা উচিত হয়েছে? এখনো এ প্রশ্ন, বির্তক চলে। আবার মুসলিম হয়ে হিন্দু মেয়ে কেন বিয়ে করলেন? এটার উত্তর, বিশ্লেষণ ও নানাভাবে করা হয়, দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় তার রচিত সাহিত্য তৎকালীন বৃটিশ শাসকদের তখতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। মনের আগুণে জ্বলে পুড়ে শাসকেরা তাকে গ্রেপ্তারও করেছেন। আবার তিনি যখন টিকাটুলীর রানুসোমকে গান শেখান, তখন হিন্দু যুবকেরা মুসলিম ছেলে হিন্দু মেয়ে গান শেখায় এ অজুহাতে মারতে আসেন। আবার সেই একই ব্যক্তিকে তৎকালীন কিছু মুসলিম মাওলানা কাফের ফতোয়া দেন। নিজের জীবনকে কন্ট্রোভার্সিতে ফেলে তাই তো তিনি সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারেন ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান। মুসলিম তার নয়ণমনি, হিন্দু তাহার প্রাণ।’ অথবা ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী। আর এক হাতে রণতূর্য।’

হ্যাঁ তিনি বিদ্রোহের কবি, বিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি, সাম্যের কবি ও বাংলা গানের 'বুলবুল' কাজী নজরুল ইসলাম। আজকের এই দিনে ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুদিনে বাংলার 'দুঃখুমিয়া'কে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

 

তথ্যসুত্রঃ

(১) বিদ্রোহী রণক্লান্তঃ নজরুল জীবনী- গোলাম মুরশিদ।

(২) নিষিদ্ধ নজরুল- শিশির কর।

(৩) সহজ নজরুল জীবনী- পিয়াস মজিদ,প্রথম আলো।

(৪) ছবিঃ অর্ন্তজাল।  




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top