Walton

উপেক্ষিত করোনা সতর্কতা

ছুটির দিনে বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২১ ২৩:০৭ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২১ ০৮:৪৯

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২১ ২৩:০৭

UCBL

বই মেলায়  ভিড়  / ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে অমর একুশে বইমেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আলোচনার মধ্যে ছুটির দিন বিকেলে বইপ্রেমীদের ঢল নেমেছিল মেলা প্রাঙ্গণে। শুক্রবার সকাল ১১টায় মেলার দ্বার খুললেও ক্রেতা-দর্শনার্থীর অভাবে শুরুর দিকে অনেকটা খরায় ভুগে বইমেলার স্টল-প্যাভিলিয়নগুলো।

দুপুর গড়িয়ে বিকেলে নামতেই বদলে যায় সেই দৃশ্যপট। মেলার দুই প্রাঙ্গণ-বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
বিকেল ৩টার পর থেকে ১৫ লাখ বর্গফুটের বিশাল মেলাপ্রান্তরে বয়ে যায় প্রাণের প্রবাহ; জনসমাগম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে থাকে বইয়ের বিকিকিনি।

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বইমেলার সময় কমিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বন্ধ করে দেওয়া হলেও চৈত্রের দাবদাহের মধ্যে দুপুরে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল কম।

বিকেলে মেলা জমে উঠলেও অল্প সময়ে মেলায় পছন্দের বই ঘুরে ঘুরে দেখতে পারছেন না বলে দাবি বইপ্রেমীদের।

দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে অবিলম্বে বইমেলা, সামাজিক অনুষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্রসহ যে কোনো ধরনের মেলা বন্ধ করার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

সেই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও মেলা কখন বন্ধ হয়ে যায়, তা নিয়ে শঙ্কায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।মেলাপ্রাঙ্গণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন মাহী  বলেন, “করোনার কারণে মেলা কখন বন্ধ হয়ে যায় ঠিক নাই। তাই এবছরের মেলাটা একবার হলেও যাতে দেখতে পারি, সেজন্যই আসলাম। দুপুরে অনেক গরম ছিল, বিকেলে মেলায় ঢুকে দুটো বই কিনতেই ঘোষণা আসছে মেলার সময় শেষ।“আসলে করোনার সংক্রমণ রোধে যদি সময় কমানো হয়ে থাকে, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ মেলার সময় কমানোর কারণেই আজকে এত ভিড়। কোথাও দু-চার লাইন পড়ে বাছ-বিচার করে বই কেনা মুশকিল।”
মেলার সময় নির্ধারিত সময় কম হওয়ায় ক্রেতা-দর্শনার্থীরা সাধারণ স্টলগুলো তেমন ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছে না বলে দাবি স্টল মালিক ও বিক্রয় কর্মীদের।

জোনাকী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী নাঈম বখতিয়ার বলেন, “এবার প্যাভিলিয়নগুলো একসাথে মাঝখানে রাখার ফলে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা সেখানেই বেশি ভিড় করছে। প্যাভিলিয়নগুলো যদি বিক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হত, তাহলে প্যাভিলিয়নের পাশাপাশি স্টলগুলো মানুষ ঘুরে দেখত।”
‘কথা প্রকাশ’ প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক এসএম ইউনুস বলেন, “আসলে সারাদিন ক্রেতা-দর্শনার্থী তেমন দেখা মেলে না। বিকেল বেলা সবাই একসাথে এসে ভিড় করে। গত ১৬ দিনে আজকে সবচেয়ে বেশি ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখা গেছে। মেলা কখন বন্ধ হয়ে যায়, এ একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে সবার মাঝে।”

গত বছরের তুলনায় এবছর মেলায় কেমন বেচাকেনা হচ্ছে জানতে চাইলে অন্বেষা প্রকাশনের পরিচালক ফাতেমা বুলবুল বলেন, “আসলে গত বছরের সাথে এবছর তুলনা করা যাবে না। মহামারীর সময়ে মেলা হচ্ছে, আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখা যাচ্ছে, সেটাই বড় বিষয়। তারপরও বিকেলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভালো সাড়া পাচ্ছি।”বইমেলা বন্ধ হওয়ার বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “বইমেলা বন্ধের বিষয়ে আমরা সরকারের কোনো নির্দেশনা পাইনি। করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার কোনো সিন্ধান্ত নিলে, সেটা সবাই জানতে পারবেন।”




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top