এই সময়ের ফ্যাশন কাতুয়া | বিজনেস | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
বিজনেস

এই সময়ের ফ্যাশন কাতুয়া

সৈকত ইসলাম, ফ্যাশন উদ্যোক্তা ও উন্নয়নকর্মী

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২১ ১৮:৪২ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৩১

সৈকত ইসলাম, ফ্যাশন উদ্যোক্তা ও উন্নয়নকর্মী | প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২১ ১৮:৪২


একবিংশ শতকে এসে যতোগুলো গবেষণামূলক ফিউশনধর্মী ভিন্নধারার পোশাক ফ্যাশনে জায়গা করে নিয়েছে কাতুয়া তার মধ্যে অন্যতম। কাতুয়া ফ্যাশনেবল এবং স্বস্তিদায়ক হওয়াতে তারুণ্যের ক্রেজ হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি পেয়েছে।

কাতুয়া ফ্যাশন জগতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। ফতুয়া এবং শর্ট পাঞ্জাবি এ দু’য়ের মাঝামাঝি দৈর্ঘ্যরে নতুন ও ফিউশনধর্মী পোশাক কাতুয়া। কাতুয়ায় রয়েছে ভিন্নধর্মী ফ্যাশনের ছোঁয়া।

কাতুয়া বৃত্তান্ত :
পুরান ঢাকার বেপারীরা ঢিলেঢালা ধরনের বিশেষ এক পোশাক পরতেন। ঢিলেঢালা ধরনের সেই বিশেষ পোশাক খুব আরামদায়ক ছিলো। অনেকে একে বেপারী পাঞ্জাবিও বলে থাকেন। বেপারীদের আরামদায়ক সেই বিশেষ পোশাক এবং কাকতাড়ুয়া থেকে ধারণা নিয়ে ডিজাইন করা হয় ফিউশনধর্মী ভিন্নধারার এক পোশাক। কালের বিবর্তনে ফিউশনধর্মী পোশাকটির নাম দেয়া হয়েছে কাতুয়া। ২০১১ সালে ফ্যাশনে প্রথম কাতুয়া সংযোজিত হয়। কাতুয়া ফ্যাশনে এনেছে ভিন্নতা। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কাতুয়া ফ্যাশনে বেশ জায়গা করে নিয়েছে।
কাতুয়া প্রসঙ্গে ফ্যাশন হাউস ব্যাং’র স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার সায়েম হাসান প্রিন্স বলেন, অন্যরা সাধারণত দু’রকম প্রোডাক্ট করে থাকে। পাঞ্জাবি আর ফতুয়া। ব্যাং এখানেই সবার থেকে আলাা। ব্যাং যেটা করে তার নাম হলো কাতুয়া। ফতুয়ার থেকে একটু বড় আর পাঞ্জাবি থেকে একটু ছোট।

উৎসবে কাতুয়া :
বিভিন্ন উৎসব, বিশেষ করে ঈদ, পূজা পার্বণে কাতুয়ার চাহিদা থাকে বেশি। তবে গরমে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। গরমের এই সময়ে কাতুয়া বেশ মানানসই।

কাতুয়ার কাপড় : কাতুয়া যেহেতু গরমের দিনের পোশাক, তাই কাতুয়ার কাপড় সবসময় সুতি হওয়াই ভালো। সুতি কাপড়ে গরম তুলনামূলক কম লাগে। আর এখন যেহেতু গ্রীষ্মকাল, তাই পোশাকে সুতির কোনো বিকল্প নেই। কাতুয়ার কাপড়ে সুতিরই প্রাধান্য রয়েছে। কাতুয়ার কাপড় প্রসঙ্গে সায়েম হাসান প্রিন্স বলেন, কাপড় ব্যবহার করেছি কটন শ্যামরে ফেব্রিক্স, কটন স্ট্রাইপ, সলিড পাতলা ডেনিম।

কাতুয়ায় রঙের বাহার :
এখন সময় তারুণ্য নির্ভর উজ্জ্বল রঙের পোশাকের। কিন্তু গ্রীষ্মের এই ভ্যাপসা গরমে সবাই উজ্জ্বল রঙ এড়িয়ে চলে, কারণ উজ্জ্বল কাপড় বেশি উত্তাপ ছড়ায়। ফলে গরম বেশি লাগে। গ্রীষ্মের এই অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে চাই সহনীয় রঙের পোশাক। যে কারণে এ সময় সর্বত্রই হালকা ও মিষ্টি রঙগুলো সবারই পছন্দ।
কাতুয়ায় বিভিন্ন হালকা ও মিষ্টি রঙ ব্যবহার প্রসঙ্গে ডিজাইনার সায়েম হাসান প্রিন্স বলেন, ঋতু ও অধিক তাপমাত্রার কথা মাথায় রেখে এ সময়ের কাতুয়ায় রয়েছে কালারের আধিক্য। কালারগুলো হলো ইন্ডিগো ব্লু, মেরুন, ডিপ এস লাইট অ্যাশ। গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা কালার বেশি ব্যবহার করেছি। এবং প্রতিটা কাতুয়া আঞ্জাম সিলিকন ওয়াশ করেছি। এসব রঙের ব্যবহার কাতুয়ায় এনেছে বৈচিত্র্য।


নকশার ভিন্নতা : কাতুয়ার নকশায় তরুণদের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এবার আমরা কাতুয়ার কলার এ ভিন্নতা এনেছি, আমাদের কাতুয়াতে কোনো বাটন প্লেট ব্যবহার করি নি। তার পরিবর্তে শোল্ডার এ জিপার ব্যবহার করেছি। এ ছাড়া কিছু কাতুয়ায় ডাবল পকেটের সাথে স্টোন ব্যবহার করা হয়েছে, এবং টুইলটেপ কনট্রাস্ট দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কিছু কাতুয়ায় ডাবল পকেটের সাথে স্টোন ব্যবহার করা হয়েছে, এবং টুইলটেপ কনট্রাস্ট দেয়া হয়েছে।
যেমন চলছে : পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার মতো কাতুয়াও একটু ঢিলেঢালা গড়নের পোশাক। হালকা ফিটিংসের কাতুয়া পরতে বেশ স্বস্তিদায়ক। কাতুয়ার কলার পাঞ্জাবির মতোই। রুচিশীল এই পোশাকে বিভিন্ন কালারফুল বোতাম ব্যবহারে কাতুয়া হয়ে উঠেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। ফুল হাতা ও থ্রি কোয়ার্টার হাতা দুই ধরনের কাতুয়া বাজারে পাওয়া যায়। ফুল হাতায় আবার বোতাম রয়েছে।
তাই চাইলে হাতা ভাঁজ করেও পরতে পারেন।

মডেল : নিরব, সাব্বির রহমান।
পোশাক : ব্যাং
ফটোগ্রাফি : কৌশিক ইকবাল




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top