Walton

কোভিড এর বর্তমান ভয়াবহতা এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু করণীয়

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১ ১০:০৮ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২১ ০৯:০৩

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১ ১০:০৮

UCBL

ফাইল ছবি

কোভিড এর দ্বিতীয় ঢেউ বলি বা পুনরায় সংক্রমণ বলি, যাই বলি বর্তমান পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে ভবিষ্যতে অবস্থা কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে কারোর কোনো ধারণা নেই। তবে এই বর্তমান পরিস্থিতি কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। এর জন্য বিগত তিন থেকে চার মাস আমাদের উশৃংখল চলাফেরা, সভা-সমাবেশ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা, নিজেদেরকে ভ্রমণ পিপাসু বানানো এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান করা মূলত এগুলোই দায়ী। ভয়াবহতার রূপ যদি একটু বিশ্লেষণ করি তা হচ্ছে- 
হাসপাতালগুলোর সিট রুগী দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
আইসিইউতে কোন সিট খালি নেই।
হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুর হার বেড়ে গিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে প্রতিনিয়তই কভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে কোভিড ইনফেকশন এর সাথে কিছুদিন পূর্বে যে ইনফেকশন আমরা দেখেছি তার সাথে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছেঃ
লক্ষণ সমূহের মধ্যে দেখা যায় আগে যে সকল লক্ষণ ছিল যেমন কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর এগুলো রয়েছে। কিন্তু এখনকার সময়ে দেখা যাচ্ছে জ্বরের সাথে সাথে লুজ মোশন বা ডায়রিয়ার সমস্যা বেশি হচ্ছে।
জ্বর তীব্র আকার ধারণ করছে। এবং দীর্ঘমেয়াদী হচ্ছে।
প্রথমদিকে আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না জ্বরের ট্যাবলেট খাচ্ছি। যখন সাত থেকে দশ দিন পরে হঠাৎ করে তীব্র অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি তখন হাসপাতালে ছুটাছুটি করছি।
30 থেকে 50 বছর বয়স্ক রোগী আমরা আগে খুব বেশি পাইনি। এখন এই বয়সের রোগী বেশ দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালে একটি বিষয়ে খুবই লক্ষণীয়। মধ্য বয়সের অনেক রোগী যাদের লক্ষণ খুব বেশি প্রকট নয় তারা দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে এবং নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি নিচ্ছে না। যে কারণে অধিক বয়স্ক রোগীরা জরুরি অবস্থায় পড়লে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো সিট থাকছে না। বিষয়টি খুবই খারাপ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কভিড আক্রান্ত হলে করণীয় কিঃ
কোভিড আক্রান্তের একটি মূল লক্ষ্যণ হচ্ছে জ্বর। জ্বরের প্রকৃতি আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। জ্বর যদি 99/100 এরকম থাকে তাহলে সাথে সাথেই কোভিড টেস্ট করাতে হবে। যত দ্রুত আমরা কোভিড সনাক্ত করতে পারব তত দ্রুতই প্রাথমিক ব্যবস্থা নিতে পারব। জ্বর যদি তিনদিনের অধিক হয় তাহলে ধরে নিতে হবে এটি কোভিড ভাইরাস ইনফেকশন এর সাথে ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশন জড়িত রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন প্রয়োজন। যদি তীব্র জ্বর হয় এবং তিন দিনের মধ্যে জ্বর পড়ে না যায় অবশ্যই ভালো মানের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।
কাশির ক্ষেত্রে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হচ্ছে
শুরুতেই অল্প কাশি থাকে। আমরা সেটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি না। যে কারণে পরবর্তীতে এটি গভীর আকার ধারণ করে কারো কারো ক্ষেত্রে। তখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে শুরুতেই কাশির প্রবণতা খারাপ বুঝার একটি কৌশল রয়েছে। আপনি বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিন। এবং খেয়াল করুন আপনার কাশি হচ্ছে বা বেড়ে যাচ্ছে কি না। যদি বুক ফুলিয়ে শ্বাস নেয়ার পরে কাশি বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ফুসফুসের যে পর্দা থাকে সেই পর্দায় প্রদাহ( নিউমোনাইটিস) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি কোভিড এর প্রাথমিক লক্ষণ। দ্রুত কোভিড পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। যাদের পূর্ব থেকেই কাশির সমস্যা রয়েছে তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং আগের ব্যবহৃত ওষুধ পূর্ণরূপে চালিয়ে যেতে হবে।
অনেকের শুরুতেই জ্বরের সাথে লুজ মোশন না ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে যে কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। সাথে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ ( ফ্যভিপিরাভির) সেবন
অনেকেই এই ওষুধটি সেবনের ব্যাপারে নির্দেশনা জানতে চান। বিষয়টি আসলে পুরোপুরি সিচুয়েশন নির্ভর। চিকিৎসক লক্ষণ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে এন্টিভাইরাল ঔষধ সাধারণত খুবই প্রথমদিকেই শুরু করতে হয় এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় নিতে হয়। সেই হিসাবে আপনি যদি দ্রুত পরীক্ষার না করার তাহলে পরবর্তীতে অ্যান্টিভাইরাল জাতীয় ঔষধ খেলে ও খুব একটা কাজ হয় না। তাই অ্যান্টিভাইরাল জাতীয় ঔষধ গ্রহন করার জন্য লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথেই পরীক্ষা করে জেনে নেয়া দরকার কভিড পজিটিভ কিনা।
নাকে গন্ধ না পাওয়া বা খাবারের স্বাদ না পাওয়াঃ
এই বিষয়টিকে অনেকে কোভিডের মূল লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। এ বিষয়টি খুবই ভুল একটি বিষয়। নাকে গন্ধ না পাওয়া বা খাবারের স্বাদ না পাওয়া এটি আক্রান্ত হবার এক সপ্তাহ পরেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি খুবই মারাত্মক পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে পারেন। আবার অনেক সময় নাকে গন্ধ না পাওয়া বা স্বাদ না পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এ বিষয়টিও চিন্তার কোন বিষয় নয়। তাই এখনকার সময়ে জ্বর বা কাশি এ দুটির যেকোনো একটি দেখা দেয়া মাত্রই কভিড পরীক্ষা করা উচিত।
কিছু ভ্রান্ত ধারণা এবং করণীয়ঃ
অনেকের ধারণা যারা কোভিড আক্রান্ত হননি তারা গরম ভাব নিলে এর আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। আবার অনেকে মনে করেন লক্ষণ প্রকাশ করা মাত্রই বারবার বেশি বেশি অত্যাধিক গরম ভাপ নেয়া শুরু করেন যা কিনা পরবর্তীতে আপনার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। গরম ভাপ নেয়া অবশ্যই এই রোগের জন্য একটি সহযোগী ভূমিকা পালন করে। তবে মনে রাখতে হবে এটি আমাদের লক্ষণ দূর করনে ভূমিকা রাখে। ভাইরাস দেহে একবার ঢোকার পরে গরম ভাপ দিয়ে এটি কে মেরে ফেলা সম্ভব- এটি ভুল ধারণা। সুতরাং এই ভুল ধারণা পোষণ করে যদি আপনি ঘরে বসে থাকেন তাহলে সমূহ বিপদ এর মধ্যে করতে পারেন। বরং আপনার রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করার জন্য সুষম খাবার, জিংক (Tab. Pep 20 mg ) ভিটামিন সি (Tab. Ceevit/ Vasco) প্রতিদিন এবং ভিটামিন ডি (Cap. Vital D/ D-cap 20000IU ) প্রতি সপ্তাহে একটি করে খেয়ে যেতে পারেন।
কোভিড ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে একমাত্র অস্ত্র মাস্ক ব্যবহার করুন, ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই কোভিড টেস্ট করান এবং দ্রুত চিকিৎসা নিন। তাহলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার যে বিড়ম্বনা সেটা থেকে রেহাই পেতে পারেন। মনে রাখতে হবে এই রোগে বেশিরভাগ মানুষই সুস্থ হয় খুব কম সংখ্যক হসপিটালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় এবং তাদের মধ্যে আরও কমসংখ্যক মারা যায়। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সঠিক নির্দেশনা ফলো করুন।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top