Walton

দেশটাকে ভালো করে দেখুন, সৌন্দর্য আবিস্কার করুন

অপরূপ বাংলা

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২১ ১৭:২৫ আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২১ ১২:৫০

অপরূপ বাংলা | প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২১ ১৭:২৫

UCBL

ভিন্ন আলোয় উদয় হাকিম

[ উদয় হাকিম। কর্পোরেট ব্যক্তি হিসেবেই বেশি পরিচিত। ভ্রমণ প্রিয় অসম্ভব প্রাণবন্ত মানুষ। লেখালেখি করেন ভ্রমণ বিষয়ে। আবৃত্তি করেন। করেন উপস্থাপনা। নানা সৃজনশীল কাজের সাথে জড়িয়ে আছেন ছেলেবেলা থেকে। বাংলাদেশের ইলেক্ট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ক্রিকেট প্রসারে রয়েছে তার অসামন্য অবদান, পরিশ্রম। তার সৃজনশীল কর্মকান্ড-লেখালেখি নিয়ে কথা বলেন অপরূপ বাংলা‘র ভিন্ন আলোয়। তার সাথে কথা বলেছেন, অপরূপ বাংলার সম্পাদক টুটুল রহমান। নিচে তার উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো। ]

 

টুটুল রহমান: আপনি কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আমরা জানি আপনি সৃজনশীল একজন মানুষ। ভ্রমন বিষয়ে লেখালেখি করেন। আবৃত্তি করেন। সম্প্রতি উপস্থাপনাও করছেন। আপনার শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?

উদয় হাকিম: একটা ফিল্ম দেখেছিলাম, বাংলা ফিল্ম। এর নাম স্যাডো অব টাইম। ভারতীয় বংশোদ্ভুত এক পরিচালক যিনি জার্মানী থাকেন, তিনি এটি বানিয়েছিলেন। অসাধারণ একটা সিনেমা। আমার জীবনে আমার দেখা সেরা সিনেমা এটি। যেখানে দেখেছি যে একটা বালক পাটকলে চাকরি করছিল। অভাবের তাড়নায় বাবা-মা তাকে সেখানে দিয়েছে। সেই ছেলেটি জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, নানা যন্ত্রনা, বাঁক পেরিয়ে এক সময় শিল্পপতি হয়ে যায়। মানুষের জীবনটা আসলে এরকমই। কখন কোথা থেকে শুরু, হয় কোথা গিয়ে শেষ হয়। অনেকটা নদীর তো। হয়তো হিমালয় পর্বত মালার কোনো একটা হ্রদে কোনো একটা ঝিরিতে তার জন্ম। নানা বাঁক-ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে সেটি আবার মহা সাগরে গিয়ে মিলিত হয়। মানুষের জীবনটাও সে রকম। এ কারণে কোথা থেকে শুরু হলো কোথা গিয়ে শেষ হবে আমরা কেউ জানি না।

এই শিল্প- সাহিত্য লেখালেখির চর্চাটা কিভাবে আসলো যদি বলেন, তাহলে বলবো. আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন দেখতাম যে, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন, মৃত্যু বার্ষিকী, নজরুলের জন্মবার্ষিকী হতো। বিভিন্ন লেখক কবি সাহিত্যিকের জন্ম দিনে স্কুলে নানা অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানগুলোতে গান শুনতাম, আবৃত্তি শুনতাম। এছাড়া নানা ধরনের সৃষ্টিশীল কাজ ছিল। সেগুলো থেকেই মূলত শিল্প সাহিত্যের প্রতি আমার একটা ঝোঁক চলে আসে। আর ছোটবেলা থেকেই আমি প্রচুর পড়ুয়া ছিলাম। পাঠ্য বইয়ের চেয়ে বাইরের বই বেশি পড়তাম। তখন থেকেই নাটক-নভেল, শিল্প সাহিত্য সব কিছু পড়া হয়ে যায়। সেই থেকেই এই সৃজনশীল কাজের প্রতি আমার দুর্বলতা। সেই থেকে শুরু। আমি যখন ঢাকা কলেজে পড়তাম তখনো লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলাম। যখন ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে ভর্তি হই সেখান থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছি তখনো লেখালেখি করতাম। যে কারণেই সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি আমার দুর্বলতা রয়ে গেছে।

টুটুল রহমান: স্বপ্ন দেখেন না? কি সেই স্বপ্ন?

উদয় হাকিম: আসলে সাংবাদিকতা করেছি, করছি এখনো। একটা কর্পোরেট জবের সঙ্গেও জড়িত আছি। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করছি। কিন্তু সব কিছু চেয়ে আমি যে কাজটা বেশি উপভোগ করি সেটি হচ্ছে লেখালেখি। ইদানিং আমি ভ্রমন নিয়ে লেখালেখি করছি। আরেকটা পরিকল্পনা করেছি। সেই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে যা লিখবো ভ্রমনের উপরই লিখবো। ভ্রমনেই আমি জোর দেবো বেশি। আমার মনে হয়েছে মানুষের যে প্রাথমিক চাহিদা সেটি হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান। এই চাহিদা যখন মিটে যায় তখনই তার তৃতীয় যে চাহিদা সেটি হচ্ছে দেশ দেখা, মানুষকে জানা বা ভ্রমন। আমাদের পরবর্তী যুগ হচ্ছে ভ্রমনের যুগ। যে কারণে স্থির করেছি আমি ভ্রমন নিয়ে লিখবো।

আমি যে কর্পোরেট জবটা করি সেখানে ক্রিকেটে পৃষ্টপোষকতা একটা বড় বিষয়। ক্রিকেট নিয়ে বহুদেশ ভ্রমণ করা হয় আমার। এছাড়া কর্পোরেট জবের কারণেই বিদেশ সফর থাকেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবেও ভ্রমন খুব পছন্দ করি। ব্যক্তিগত ভাবেও দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় যাই। যে কারণে আমার মনে হয়েছে যে, এই ভ্রমণটাই হয়তো আমার জন্য পারফেক্ট হবে।

আসলে বঙ্গবন্ধুর নামটাই এতো বৃহৎ একটা নাম যেটি উচ্চারণ করলেই শ্রদ্ধায় মাথানত হয়ে আসে। আজকে এই স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুরই অবদান। আমার পরিকল্পনা আছে যে বঙ্গবন্ধু যে সব জায়গায় ভ্রমণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রমণ নিয়ে যদি আমি সুযোগ পাই লেখালেখি করবো

টুটুল রহমান: বাংলাদেশ সূবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। একজন তরুণ হিসেবে দেশকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন? কি ভাবেন?

উদয় হাকিম: আসলে মুক্তিযোদ্ধারা না থাকলে এই দেশ স্বাধীন হতো না। আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। যে ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ, স্বাধীন বাংলাদেশ। বিজয়ের ৬০ বছরে আমি তাদের প্রতি আমার অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের রক্তের ঋণ আমরা কোনোদিনও শোধ করতে পারবো না। আজকে আমি বাংলায় কথা বলছি, স্বাধীন বাংলাদেশ বাস করছি। ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারছি। এটা তাদের জন্য। সেই সঙ্গে একটা জিনিস আমাকে ভাবায় একটা বড় সমস্যা হচ্ছে বেকার সমস্যা। এই বেকার সমস্যাটা যদি আমরা সমাধান করতে পারি তাহলে বাংলাদেশ আর কোনো অভাব থাকবে না। এখন যে উন্নত বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছি, আমরা উন্নত বাংলাদেশের কথা বলছি. সেটি সম্ভব হবে যদি যদি বেকারত্বের সমাধান করি। সেটা সম্ভব হবে শুধু শিল্পায়নের মাধ্যমে। ব্যাপক শিল্পায়ন ছাড়া এই মুহুর্তে আমাদের কোনো বিকল্প নেই। এটা আমার ভাবনা। অভিমত। যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলছি, সেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবরূপ যদি আমরা দেখতে চাই তাহলে শিল্পায়ন ছাড়া আর বিকল্প কোনো পথ নেই। আমি বলবো সরকারের উচিত দেশের প্রতি থানায় সম্ভব হলে প্রতি ইউনিয়ন পর্যায়ে কলকারখানা গড়ে তোলা। আমরা যদি ব্যাপক শিল্পায়ন করতে পারি তাহলে আমরা সেই কাঙ্খিত উন্নত বাংলাদেশে পৌছাতে পারবো।

টুটুল রহমান: বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি। তাঁকে নিয়ে লেখার পরিকল্পনা আছে কিনা বা তাগিদ অনুভব করেন কি না?

উদয় হাকিম: আসলে বঙ্গবন্ধুর নামটাই এতো বৃহৎ একটা নাম যেটি উচ্চারণ করলেই শ্রদ্ধায় মাথানত হয়ে আসে। আজকে এই স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুরই অবদান। আমার পরিকল্পনা আছে যে বঙ্গবন্ধু যে সব জায়গায় ভ্রমণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রমণ নিয়ে যদি আমি সুযোগ পাই লেখালেখি করবো এটি আমার পরিকল্পনার মধ্যে আছে।

উদয় হাকিমের সঙ্গে অপরূপ বাংলার সম্পাদক টুটুল রহমান

টুটুল রহমান: ওয়ালটনের সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

উদয় হাকিম: আজকে ওয়ালটন যে পর্যায়ে এসেছে অর্থাৎ একক বাংলাদেশী কোম্পানী হিসেবে, একক স্থানীয় বিনিয়োগকারী হিসেবে ওয়ালটন দেশের এক নম্বর কোম্পানী । এই এক নম্বরে আসতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বড় অবদান ছিল মিডিয়া কর্মী-সাংবাদিকদের। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সাংবাদিকরা আমাদেরকে সর্বোতভাবে সহায়তা করেছেন। সে জন্য আমি ওয়ালটনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করি ওয়ালটনের সাথে সাংবাদিকদের এই যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরো সুদৃঢ় হবে। কারণ আমাদের দুই পক্ষের একটা কমন গোল আছে সেটা হচ্ছে উন্নত বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবার জন্য ওয়ালটন যেমন কাজ করছে সাংবাদিক বা সংবাদ কর্মীরাও সেভাবে কাজ করছে। আমি মনে করি যে উদ্যোক্তা এবং মিডিয়া এই দুটো শক্তি যখন এক সঙ্গে কাজ করবে তখন কোনো কাজই অসম্ভব নয়। আশা করছি। সেই যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা সেই লক্ষে পৌছাতে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নে পৌছাতে যদি মিডিয়া ও উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করে তাহলে অবশ্যই আমরা সফল হবো।

টুটুল রহমান: ওয়ালটনের যে স্বপ্ন ছিল যে সুলভ মূল্যে মানুষের কাছে পণ্য পৌছানো। সেটার কাছাকাছি কি তারা রয়েছে বলে মনে করেন? বাংলাদেশের মানুষ বা বিশ্বের মানুষ ওয়ালটনকে কিভাবে দেখে?

উদয় হাকিম: একটা সময় জাহাজ বোঝাই করে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আসতো। জাহাজ বোঝাই করে পণ্য আসতো মানে কিন্তু আমার দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন অন্তত পক্ষে সেটি আর হচ্ছে না। সেই ভাবে বিদেশ থেকে আমাদের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। আরেকটি বিষয় হলো এখন জাহাজ বোঝাই করে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে সেখানে লেখা থাকছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ অর্থাৎ বাংলাদেশের পতাকা বুকে নিয়ে সেটি বাইরে যাচ্ছে । এক সময় জাহাজ ভরে আসতো এখন জাহাজ ভরে যায়। এই কাজটা আমরা করতে পেরেছি। আরেকটি বিষয় এই যে এখন একটি ফ্রিজ ১৫ হাজার টাকায় কিনতে পারছি। যদি ওয়ালটনের মতো একটা দেশীয় প্রতিষ্ঠান না থাকতো তাহলে ভাবুন এটা কত দিয়ে কিনতে হতো। অতএব একটা জায়গায় ওয়ালটন সফল হয়েছে সেটি হচ্ছে সাশ্রীয় মূল্যে ক্রেতাদের কাছে পণ্য দিতে পারছি যে কারণে অন্য প্রতিযোগিরা বেশি দামে বিক্রি করতে পারছে না। আমাদের গ্রামের খেটে খাওয়া দারিদ্র বা মধ্যম আয়ের মানুষরা তারাও কিন্তু এখন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করতে পারছে। যেগুলোকে আমরা বিলাসী পণ্য মনে করতাম। ফ্র্রিজ, টিভি এয়ার কন্ডিশনার সেগুলো কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারছে। এটি আমি মনে করি ওয়ালটনের বড় সাফল্য। আশা করছি যতই দিন যাবে সে সমস্ত পণ্যের দাম কিন্তু আরো কমে আসবে। আরেকটি বিষয় বলে রাখি, আপনি সারা পৃথিবীর দিকে খেয়াল করবেন, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন সারা পৃথিবীর সেরা সেরা কোম্পানী যেগুলো যারা বেশি মুনাফা অর্জন করছে, সবচেয়ে ধনী কোম্পানী তারা সবই কিন্তু টেক বেইজ। বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটনই টেক বেইজ। এ কারণে ওয়ালটনের বিশাল সম্ভাবনা। এটাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরো উন্নত হবে।

টুটুল রহমান: ভ্রমণ নিয়ে মনে করার মতো স্মৃতি আছে?

উদয় হাকিম: ভ্রমনের তো অনেক স্মৃতি আছে। স্মৃতি-বিস্মৃতি মিলিয়ে বিশাল অনুভুতি। সেটা এক কথায় বলা সম্ভব না। কিন্তু যত দেশেই যাই না কেন? সুন্দর জায়গাই দেখিনা কেন। এক সপ্তাহ পর আর সেখানে মন টেকে না। মনে হয় কবে বাংলাদেশে যাবো। কমে আমার দেশে যাবো।
তবে একটা স্মৃতি আমাকে নাড়া দেয়। জিম্বাবুয়ে ভিক্টোরিয়া ফলস্ বা ভিক্টোরিয়া জলপ্রোপাত দেখতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে যারা ছিলেন তারা অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছিলেন। আর আমি যেকোনো জিনিসই দেখি খুটিয়ে খুঁটিয়ে অনেক সময় নিয়ে। দেখার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নোট রাখি পরবর্তীতে লিখবো এ জন্যই। যে কারণে আমি একটু পেছনে পড়ে ছিলাম। এর মধ্যে দেখি ইউরোপের এক বয়স্ক মহিলা তিনি হাঁটতে পারছেন না একা একা। তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- ক্যান আই হেল্প ইউ?
তিনি বললেন, সো কাইন্ড অব ইউ। অবশ্যই আমার সাহায্য লাগবে। সাহায্য করতে পারলে আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। মহিলাকে আমি অনেক শক্তি নিয়ে ধরে তার লোকদের কাছে পৌছে দিই। যখন পৌছে দিলাম তখন সে কৃতজ্ঞতায় একেবারে গলে গেলো। আমাকে জিজ্ঞেস করলো- তোমার দেশ কোনটা? আমি বল্লাম বাংলাদেশ। তখন তারা মহিলা এবং তার সঙ্গীরা বললো, বাংলাদেশের মানুষগুলো যে এতো ভালো হয় আগে জানা ছিল না।

সেই সঙ্গে সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো তুমি যে শার্টটা পড়েছে সেটা খুব সুন্দর এটা কোথাকার বানানো? আমি বললাম এটাও মেড ইন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সম্পর্কে তারা এমন দৃষ্টি নিয়ে তাকালো যে আমার মনটা ভরে গেলো।

আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিলাম এক সঙ্গে অনেক দিন। ১৫ দিন বা তারো বেশি দিন। তখন দেখলাম এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিদেশে ভালো লাগে। তারপরে আর বিদেশ ভালো লাগে না। তারপর মনে হয় কখন বাংলাদেশ যাবো। কখন আমার গ্রামের বাড়ি যাবো। কখন আমার মাঠ-ঘাট নদী ফসল দেখবো। আরেকটা বিষয় বলে রাখি যে, আমরা বিদেশে গিয়ে সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখি সুন্দর সুন্দর জিনিস দেখে প্রেমে পড়ে যাই কিন্তু বাংলাদেশও এমন অসাধারণ সুন্দর জায়গা আছে যেগুলো আমরা জানি না। এ কারণে আমি বিদেশে যেমন ঘুরি তার চেয়ে অনেক বেশি ঘুরি বাংলাদেশে। এ জন্য আমি সবাইকে বলবো আপনি নিজের দেশটাকে দেখুন। এখানে যে কত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সেটি আবিস্কার করুন। রবীন্দ্রনাথা হয়তো সেজন্যই বলেছেন, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া / ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শীষের ওপর/ একটি শিশির বিন্দু।

টুটুল রহমান: বই মেলায় আপনার কি কি বই আসছে?

উদয় হাকিম: আমি তো সেরকম পেশাদার লেখক নই। প্রতি বছরই চেষ্টা করি একটি করে বই লেখার । এ বছরে যেটি আসছে সেটির নাম ‘ দার্জিলিংয়ে বৃষ্টি কালিম্পংয়ে রোদ। এটি আমাদের কাছের একটি জায়গা। ভারতের কালিম্পং। আমি আগেই বলেছি যে এখন আমরা ইচ্ছে শুধুই ভ্রমণ নিয়ে লেখা সেটিই করছি। তবে অনেক লেখা জমা হয়ে আছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে ভ্রমণ করেছি। যেগুলো নিয়ে বই লেখা হয়নি। আমি চেষ্টা করবো আগামী বই মেলায় অন্তত যাতে একাধিক বই আসে।

টুটুল রহমান: সম্প্রতি ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। কিভাবে কাজ করবেন সাংবাদিকদের জন্য

উদয় হাকিম: বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতি ঢাকা সেখানে ৬০০ সদস্য। আমি মনে করি এটি সাংবাদিকদের অনেক বড় একটি সংগঠন। এখানে কাজ করার অনেক কিছুই আছে। তবে আমার কাজ হবে যে, এখানে সাংবাদিকদের মধ্যে এক ধরনের বিভাজন অনৈক্য বা মত দ্বৈততা আছে। আমি চেষ্টা করবো সেটি নিরসনের। আর বৃহত্তর ময়মনসিংহের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নেতা আছেন। যারা বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা। তার মধ্যে আছে মনজুরুল আহসান বুলবুল, আছেন কুদ্দুস আফ্রাদ, মোল্লা জালাল, ওনাদের পরামর্শ নিয়ে তাদের স্নেহধন্য হয়ে আমি কাজ করতে চাই। তবে এর আগে যেহেতু আরো বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পেরেছি আশা করি এই চ্যালেঞ্জেও জয়ী হবো। এজন্য আমি বাংলাদেশের সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। তারা যদি আমাকের সহযোগিতা করে তাহলে আশা করি ভালো ভাবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পারবো।

টুটুল রহমান: অপরূপ বাংলাকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

উদয় হাকিম: অপরূপ বাংলার পাঠক ও দর্শকদের শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top