অন্ধকারে ছোটাছুটি, কে জানাবে কোথায় ফাঁকা | জাতীয় | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
জাতীয়
হাসপাতালে শয্যার হাহাকার

অন্ধকারে ছোটাছুটি, কে জানাবে কোথায় ফাঁকা

অপরূপবাংলা

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২১ ১২:০০ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২১ ১২:৫৩

অপরূপবাংলা | প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২১ ১২:০০


ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে উদ্বেকজনকভাবে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। সবচেয়ে বেশি চাপ যাচ্ছে রাজধানীর ওপর। ঢাকায় করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ হাসপাতালেই ফাঁকা নেই শয্যা। দু’একটিতে অল্প সংখ্যক শয্যা থাকলেও, করোনা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানেন না কোন্ হাসপাতালে গেলে ভর্তি হওয়া যাবে। বাধ্য হয়ে হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে শয্যার জন্য।

রাজধানী অদূরে ভুলতা গাউছিয়া থেকে করোনা আক্রান্ত খোদেজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তার স্বজনরা। কিন্তু দুইদিন হাসপাতালে ঘুরেও তাকে ভর্তি করাতে পারেননি। খোদেজার ভাইসহ একাধিক আত্মীয় এ হাসপাতালে চাকরি করলেও বেড খালি না থাকায় ভর্তি করাতে পারছেন না। শেষপর্যন্ত প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ভোগা খোদেজাকে ভাড়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে বাসায় রেখে কোনোভাবে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল-২-এর করোনা ইউনিটের সামনে দেখা যায় খোদেজাকে। অক্সিজেনের নল লাগিয়ে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি তৃতীয় দিনে শেষ পর্যন্ত যশ্যা পেয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।

বুধবারের (২৮ জুলাই) ঘটনা। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাতে করোনা আক্রান্ত স্ত্রী নাসরিন সুলতানাকে এনেছিলেন আবদুর জাহেদ রাজু। কিন্তু সিট মিলেনি। নাসরিনের শরীর এতটাই খারাপ লাগছিল যে তিনি ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা রাজুকে পরামর্শ দিলেন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাকে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু নাসরিনের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে, তাই রাজু সিদ্ধান্ত নিলেন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে তার নিজস্ব মোটরসাইকেলই ভালো হবে। কিন্তু মোটরসাইকেলে বসেই ঢলে পড়ছেন নাসরিন। পাশের ব্যক্তিরা আবারও পরামর্শ দিলেন, ‘তাহলে ওনাকে আপনার সঙ্গে ওড়না দিয়ে বেঁধে নিয়ে যান।’ তাদের এ কথায় সম্মতি দিয়ে রাজু তার এক স্বজনের সহায়তায় স্ত্রী নাসরিনকে নিজের সঙ্গে বেঁধে নিলেন।

স্ত্রীকে পিঠে বেঁধে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। কিন্তু কোনভাবেই তারা সিটের ব্যবস্থা করতে পারেননি। পরে খবর পান মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সিট ফাঁকা আছে। আবারও ওই একইভাবে স্ত্রী নিয়ে রওনা হন মহাখালীর উদ্দেশে। ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসক দেখে ভর্তি করাতে বলেন। কিন্তু সিট ফাঁকা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। প্রায় ৩০ মিনিট পর সিট পাওয়া যায়।

শুধু খোদেজা আর নাসরিন নয়। তাদের মতো আরও অনেক করোনা রোগী সিট পেতে ছোটাছুটি করছে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে ৩টি হাসপাতালে আইসিইউ নেই। বাকি ১৩টি হাসপাতালের মধ্যে ৯টি হাসপাতালেই গতকাল কোনো আইসিইউ শয্যা ফাঁকা ছিল না। বাকি চারটি হাসপাতালে ফাঁকা ছিল ৯টি আইসিইউ। আর সারা দেশে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১ হাজার ৩১২টি। এর মধ্যে ১ হাজার ১২১টিতে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top