করোনা টিকা বানিজ্য, ভূ-রাজনীতি ও কুটনীতি এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য | মতামত | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি

করোনা টিকা বানিজ্য, ভূ-রাজনীতি ও কুটনীতি এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য

মোতাহার হোসেন চৌধুরী

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২১ ১০:১৬ আপডেট: ১৩ মে ২০২১ ১০:৩২

মোতাহার হোসেন চৌধুরী | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২১ ১০:১৬

UCBL

লেখক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে —‘করোনার টিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা বৈশ্বিক মানবাধিকার’।
কিন্তু মানবাধিকারের নতুন ও অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টিও ধনী-দরিদ্রের বৈশ্বিক বৈষম্যে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ন্যায্য চাহিদা ও প্রাপ্যতার বাস্তব সমীকরণে যুক্ত হয়েছে বানিজ্যিক, রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক স্বার্থের নিষ্ঠুর টানাপোড়েন।

করোনা বিধ্বস্ত পৃথিবীতে মানুষের জন্য টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করণে কিছু সময়োপযোগী আন্তর্জাতিক উদ্যোগ পরিলক্ষিত হলেও সেটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সংকট ও দৃশ্যমান কর্মকান্ড দরিদ্রদের জন্য অনুকূল নয়।
দরিদ্র, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো টিকার ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্তিতে পিছিয়ে আছে এবং তাদের জন্য সময়মতো টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

করোনার টিকার সফল আবিস্কার ও উৎপাদন কার্যক্রমের শুরুতে এই ফেব্রুয়ারিতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আওতায় টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কোভ্যাক্স’ নামে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের লক্ষ্যে গঠিত এই কোভ্যাক্স স্কীমের নেতৃত্বে আছে ‘গ্যাভি’ ‘সিইপিআই’ ও ‘ইউনিসেফ’ সহ কিছু বৈশ্বিক সংগঠন।
ডব্লিউএইচও এর এই কোভ্যাক্স স্কীমের উদ্যোগের সমন্বিত অংশীদার দেশ ১৯২ টি। এই ১৯২ টি দেশের মধ্যে উন্নয়নপ্রত্যাশী দেশের সংখ্যাই বেশি এবং বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের বসবাসও এসব দেশেই। কিন্তু টিকা প্রাপ্তির এ পর্যন্ত হিসাবে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর এই দেশগুলোই বেশি পিছিয়ে পড়েছে।
পক্ষান্তরে ধনীদেশগুলো টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেকখানি এগিয়ে আছে। এমনকি কোনো কোনো উন্নত দেশ তাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পরিমাণ টিকা সংগ্রহ ও মজুত করে ফেলেছে। ধনীদেশগুলোর কোটি কোটি মানুষ টিকা পেয়ে গেছে। ওখানকার জীবনও প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন কেন্দ্র, হোটেল রেঁস্তোরা, পানশালাসহ সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে ও হচ্ছে।
করোনা টিকার এই অবস্থা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রিয়াসুস সম্প্রতি বলেছেন-‘ধনী দেশগুলো কোভ্যাক্স কর্মসূচিকে উপেক্ষা করছে। তারা দ্রুত সব টিকা নিয়ে নিচ্ছে। যে পরিমান টিকা তাদের দরকার তার চেয়ে বেশি টিকার ক্রয়াদেশ তারা দিচ্ছে।’
তিনি আরো জানান- ‘নিম্ন আয়ের দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ০.৩ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে’।

ধনীদেশগুলোর এরুপ অমানবিক-অন্যায় আচরণে টিকার ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যপূর্ণ পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে-এটি স্পষ্ট। এমনকি ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে প্রতিশ্রুত টিকাও কোভ্যাক্সকে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে এই মে পর্যন্ত প্রতিশ্রুত প্রাপ্যতার ৩২ কোটি টিকার মধ্যে কোভ্য্যাক্স ৪ মে ২০২১ পর্যন্ত মাত্র ৫ কোটি ২৪ লক্ষ টিকা পেয়েছে এবং এর আওতায় ৪ কোটি ৯০ লক্ষ টিকা সরবরাহ ও বিতরণ সম্ভব হয়েছে। বাকী টিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া কোভ্যাক্স টিকা পাচ্ছে শুধু ফাইজার ও অ্যাস্ট্রোজেনেকার কাছ থেকে।
মডার্না কিছু কম মুল্যে কোভ্যাক্সকে টিকা দিতে সম্মত হয়েছে, তাও আবার এখনি নয়—২০২২ সালে। অন্য প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে কোভ্যাক্স এর টিকা প্রাপ্তি এখনও পর্যন্ত অনিশ্চিত।
তবে সুইডেন কোভ্যাক্সকে শীঘ্রই ১০ লাখ টিকা দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে টিকার এই কোভ্যাক্স কর্মসূচী চালু রাখতে এবং ২০২১ সালের মধ্যেই ২০০ কোটি মানুষের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু এই স্কীমের লক্ষ্য অর্জনে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে উল্লেখ করার মতো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

টিকার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ফাইজার- বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা,মডার্না,জনসন এন্ড জনসন,রাশিয়ার স্পুতনিক,চীনের সিনোফার্ম-সিনোভ্যাক সফল উৎপাদন-সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোভ্যাক্সকে টিকা প্রদানে কার্যকরী পদক্ষেপ এদের কারোরই পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
উপরন্তু উৎপাদকেরা টিকা বিক্রয় করছে ধনী দেশগুলোর কাছে,যা শুধুই বাণিজ্যিক স্বার্থে। ফাইজার জানুয়ারী-মার্চ প্রান্তিকেই ৩৫০ কোটি ডলারের টিকা বিক্রয় করেছে। সে বানিজ্য অব্যাহত গতিতে চলছে।
মডার্না এ বছর ১৮০০ কোটি ডলারের টিকা বিক্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে,যা চলমান।
অন্যদেরও বানিজ্যিক লক্ষ্য প্রায় একইরকম।

এছাড়াও রাশিয়ার ‘স্পুতনিক-ভি’ এর উদ্দেশ্য ব্যবসার পাশাপাশি কুটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে সাফল্য অর্জন। সে লক্ষ্যেই স্পুতনিক এগুচ্ছে।
‘সিনোফার্ম’ ও ‘সিনোভ্যাক’ নিয়ে চীনের বানিজ্যিক সাম্রাজ্যের পতাকাই উড়ছে তাদেরই অনুকূল অংশীদার রাষ্ট্রগুলোকে টিকা সরবরাহের মাধ্যমে। টিকার বানিজ্য ও কুটনীতিতে চীন সমান্তরালে সফল বলা চলে।

এরুপ পরিস্থিতিতে কোভ্যাক্সের উদ্যোগের সফলতার আশা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। টিকা নিয়ে সবই হচ্ছে ধনীদের স্বার্থে এবং বিশ্বব্যাপি চলমান রাজনৈতিক,বানিজ্যিক ও কুটনৈতিক সমীকরণকে সামনে রেখে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিশ্বময় বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, কোভ্যাক্স থেকে আফ্রিকার ৪১ টি দেশ এই পর্যন্ত টিকা পেয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখের মতো। অথচ পুরো আফ্রিকা মহাদেশ জুড়েই সংক্রমণ বাড়ছে আশংকাজনকভাবে। প্রয়োজনীয় বাকি টিকা প্রাপ্তিতে ও টিকাদান কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের দেশে দেশে।

দক্ষিণ আমেরিকার করোনা ও টিকাদান পরিস্থিতি সুখপ্রদ নয়।
সোয়া ২১ কোটি জনসংখ্যার ব্রাজিলে ৭ মে পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ বা ফুলকোর্স টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫২ হাজার ৯১৬ জন মানুষ। কিন্তু ব্রাজিলে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে দ্রুতগতিতে।
দক্ষিণ আমেরিকার করোনাক্রান্ত দেশগুলোর চিত্র প্রায় একই।

এশিয়ায় ভারতের অবস্থা মর্মান্তিক। দেশটি করোনায় মানবিক বিপর্যয়ে। দিনে ৪ লাখের অধিক হারে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রাণ যাচ্ছে প্রতিদিন ৪ হাজারের মতো মানুষের। হাসপাতাল শয্যা, অক্সিজেন ও আইসিইউ এর তীব্র সংকটের পাশাপাশি টিকা প্রাপ্তি নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে দেশটিতে। ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে গত ৯ মে পর্যন্ত ২য় ডোজ বা ফুলকোর্স টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে ৩ কোটি কোটি ৪৫ লাখ নাগরিককে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গত ৮ মে ২০২১ টিকা আমদানি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখন থেকে টিকা আমদানি ও বিপণন করতে পারবে। যদিও সেদেশের সেরাম ইনস্টিটিউট পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সেরাম ‘কোভিশিল্ড’ করোনা ভ্যাকসিন তৈরী করছে। তাছাড়া ভারতে উৎপাদন-সরবরাহে আছে ভারত বায়োটেক এর ‘কোভ্যাক্সিন’ টিকাও। তবু তাদের পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না নিজ দেশের চাহিদা মেটানো।

নেপালে সংক্রমণ বাড়ছে আশংকাজনক ভাবে। এ যাবত সংক্রমিত মানুষ প্রায় ৪ লাখ। মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭২০ জন মানুষের।প্রতিদিন সংক্রমণের উর্ধ্বগতি চলছে সেখানে —দিনে প্রায় ৯ হাজার। অথচ টিকা প্রাপ্তিতে দেশটি পিছিয়ে, প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশে ৭ মে পর্যন্ত ফুলকোর্স টিকা পেয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৬২ হাজার মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে টিকার এই কোভ্যাক্স কর্মসূচী চালু রাখতে এবং ২০২১ সালের মধ্যেই ২০০ কোটি মানুষের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু এই স্কীমের লক্ষ্য অর্জনে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে উল্লেখ করার মতো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না

নেপাল ছাড়াও ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক ঝুঁকিতে আছে তার অন্য প্রতিবেশি ও নিকটবর্তী দেশসমূহ।এসব দেশগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যুও বাড়ছে। টিকাদানের হারও এই দেশসমূহে অনেক কম।
ভারতের ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে—এটি বৈশ্বিক সংকটের কারণ হয়ে যেতে পারে।
বেশ কয়েকটি দেশ কিছু টিকা পেলেও এখন দ্বিতীয় ডোজের প্রাপ্যতা নিয়ে সংকটে পড়ে গেছে। আফ্রিকার দেশ ঘানায় এই সমস্যা তীব্র বলে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশেও আশংকাজনক সংক্রমণকাল শেষ হয়নি। এরই মধ্যে এ দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের রোগীও শনাক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ শুরুতেই ‘কোভিশিল্ড’ টিকা সংগ্রহ করেছিল ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। এই টিকার ১ম ডোজ পেয়েছে এ দেশের ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৮১১ জন মানুষ। ১ম ডোজ প্রাপ্তদের ২য় ডোজ দিতে হলে প্রয়োজন ১ কোটি ১৬ লাখ ৬২২ ডোজ। প্রাপ্ত টিকার হিসাবে ২য় ডোজের ঘাটতি ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ । ‘মিক্সিং ভ্যাকসিন’ এর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণালব্ধ তথ্য এখনো পর্যন্ত গবেষকদের কাছে না থাকায় একই টিকা ২য় ডোজের জন্য আনয়নের প্রচেষ্টা চলছে।
দেশের অবশিষ্ট জনগণের জন্য অনুমোদিত অন্য টিকা প্রাপ্তির রাজনৈতিক-কুটনৈতিক-বানিজ্যিক জোর চেষ্টাও অব্যাহত আছে। প্যাটেন্ট বা মেধাস্বত্ব এনে এখানেও টিকা উৎপাদনের উদ্যোগের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।চীনের উপহারের সিনোফার্মের ৫ লাখ টিকা ১২ মে আসছে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে টিকা নিয়ে সার্বিকভাবে খুব বেশি আশাপ্রদ সুসংবাদ এখনো পর্যন্ত নেই।

কোভ্যাক্স ব্যর্থ হলে ও টিকাদান কার্যক্রম ন্যায্যতার ভিত্তিতে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্যহীনভাবে করা না গেলে সারাবিশ্বেই একটা বিপর্যয়কর অমানবিক পরিস্থিতি তৈরী হবে।
এ অবস্থার উত্তরণে ধনীদের সহযোগীতা আশাব্যঞ্জক নয়।টিকার উৎপাদক রাষ্ট্রগুলোর কোভ্যাক্স বা দরিদ্রদের টিকা দানে অনীহা বিরাজমান।
এখন নতুন সংকট দেখা দিয়েছে টিকার মেধাস্বত্ব বা প্যাটেন্ট হস্তান্তর নিয়ে। জানা গেছে জার্মানিসহ কেউ কেউ টিকার মেধাস্বত্ব অন্য কাউকে দিতে রাজি নয় বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে ও মেধাস্বত্ব পেলে অনেকেই নিজ দেশে টিকা উৎপাদন করে সংকট মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতার অভিমত জানান দিচ্ছে। এটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত মিডিয়ায় জোরালোভাবে আসছে।

প্রয়োজন—ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে ন্যায়সঙ্গতভাবে চাহিদানুযায়ী শীঘ্রই টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ। অন্যথায় ধনীরা আপাত রক্ষা পেলেও টিকার প্রাপ্যতা প্রয়োজন অনুযায়ী নিশ্চিত করা না গেলে করোনা মহামারির চলমান আঘাতে দরিদ্র, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে এবং এই ক্ষতি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে লাখো কোটি ডলারের। এ ক্ষতি সারা পৃথিবীজুড়ে হওয়াটাই স্বাভাবিক।

করোনার টিকা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এই কান্ডজ্ঞানহীন অন্যায় আচরণ পুঁজি অর্থনীতির বিশ্ব ব্যবস্থার অনিবার্যতার ফসল। টিকা নিয়ে এই নির্দয় ভূ-রাজনীতি,কুটনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থকেন্দ্রিক প্রাপ্যতা-অপ্রাপ্যতাও তারই অংশ। সকল অসাম্য, অন্যায্যতা ও বৈষম্যের অবসানে বিশ্বব্যাপি বঞ্চিত মানুষের জাগরণই কি সমাধান ?

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top