প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তে আউট হলেন তামিম, বিপদে বাংলাদেশ | খেলাধুলা | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি

প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তে আউট হলেন তামিম, বিপদে বাংলাদেশ

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২১ ১৮:৩৬ আপডেট: ২৩ জুন ২০২১ ০৭:৩০

অপরূপ বাংলা প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২১ ১৮:৩৬

UCBL

ফিরছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল

আম্পায়ারের প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তে আউট হলেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের বিপদ বাড়ল আরও। দুশমন্থ চামিরার ফুল লেংথ বল ড্রাইভ করার চেষ্টা করেন তামিম। একটি শব্দও শোনা যায়। লঙ্কানদের আবেদনে আঙুল তুলতে খুব একটা সময় নেননি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ। তবে তামিম রিভিউ নেন সঙ্গে সঙ্গেই। 

রিভিউয়ে আল্ট্রা-এজ-এ ধরা পড়ে শব্দ। তবে বল যখন ব্যাটের পাশে, ঠিক ওই সময়টাতেই ব্যাট লাগে মাটিতেও। তাই শব্দ আসলে কোনটির, নিশ্চিত হওয়া যায়নি বারবার রিপ্লে দেখেও। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় সিদ্ধান্থ বহাল রাখেন তৃতীয় আম্পায়ার। তামিম তাতে নাখোশ হন যথেষ্টই। ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে ক্ষোভ ফুটে ওঠে তার শরীরী ভাষায়। ২৯ বলে ১৭ রান করে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২৮৭ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ৯.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮।

শেষেও ব্যর্থ সাকিব

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাকিব আল হাসান শেষ ম্যাচেও ফিরতে পারলেন না রানে। দুশমন্থ চামিরার গতিময় শর্ট বল সামলাতে না পেরে বিদায় নিলেন তিনি ৪ রানেই।

সাকিবের শরীর তাক করে শর্ট বল করেন চামিরা। পুল করার চেষ্টায় সাকিবের রিফ্লেক্স ছিল কম, তাই টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। বল লাগে ব্যাটের ওপরের দিকে। স্কয়ার লেগে রমেশ মেন্ডিসের লাফানোর টাইমিং ছিল নিখুঁত। দারুণ ক্যাচ নেন তিনি।

আগের দুই ম্যাচে ১৫ ও শূন্য রানের পর এবার সাকিব ৭ বলে ৪ । ২৮৭ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ৩.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯।

শুরুতেই শেষ নাঈম

মোহাম্মদ নাঈম শেখের প্রথম ওয়ানডে ইনিংস থমকে গেল পথচলার শুরুতেই। বাজে ফুটওয়ার্কের ছাপ রেখে বাঁহাতি ওপেনার ফিরলেন ১ রানে।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের আর ম্যাচে দুশমন্থ চামিরার প্রথম বলটি ছিল অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে। নাঈম ড্রাইভ খেললেন শরীর থেকে অনেক দূরে, পা নড়েনি সামান্যও। ব্যাটের কানায় লেগে বল একমাত্র স্লিপের হাতের।

নাঈম আউট ২ বলে ১ রান করে। ২৮৭ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ১.১ ওভারে ১ উইকেটে ২।

নতুন উদ্বোধনী জুটি

অনুমিতভাবেই তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বাংলাদেশের ৭৩তম উদ্বোধনী জুটি এই দুজন।

গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হলেও সেই ম্যাচে ব্যাটিং পাননি নাঈম।

সিরিজের সর্বোচ্চ রান

সিরিজের সর্বোচ্চ দলীয় রান শ্রীলঙ্কার এই ২৮৬। আগের দুই ম্যাচে ২৫৭ ও ২৪৬ রানের পুঁজি নিয়েও জিতেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের উইকেট অবশ্য সিরিজের সেরা ব্যাটিং উইকেট বলেই মনে হচ্ছে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এর চেয়ে বড় রান তাড়ায় জয়ের ঘটনা আছে চারটি। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশের, ২০১২ এশিয়া কাপে ভারতের ২৮৯ রান তাড়া করে।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ২৮৭

শেষ ১০ ওভারে প্রত্যাশিত ঝড় না উঠলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিতে পারল শ্রীলঙ্কা। ৫০ ওভারে তাদের রান ৬ উইকেটে ২৮৬।

শেষ ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করতে পারে কেবল ৬৯ রান। এর মধ্যে শরিফুলের করা শেষ ওভার থেকেই আসে ১৮ রান। ৪১ থেকে ৪৯ পর্যন্ত ৯ ওভারে বাউন্ডারি হয় কেবল দুটি।

ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরিতে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা অপরাজিত থাকেন ৭০ বলে ৫৫ রানে।

টস জয়ের পর কুসল পেরেরা বলেছিলেন, ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস খেলতে হবে। সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নেন লঙ্কান অধিনায়ক। তার ১২০ রানের ইনিংসটিই দলের ইনিংসের মেরুদণ্ড।

শ্রীলঙ্কা : ৫০ ওভারে ২৮৬/৬ (গুনাথিলাকা ৩৯, কুসল পেরেরা ১২০, নিসানকা ০, কুসল মেন্ডিস ২২, ধনাঞ্জয়া ৫৫*, ডিকভেলা ৭, হাসারাঙ্গা ৬, রমেশ ৮*; শরিফুল ৮-০-৫৬-১, মিরাজ ১০-০-৪৮-০, মোসাদ্দেক ৩-০-৩২-০ তাসকিন ৯-০-৪৬-৪, মুস্তাফিজ ১০-০-৪৭-০, সাকিব ১০-০-৪৮-০)।

তাসকিনের চতুর্থ

শেষ দিকে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারলেন না ভানিন্দু হাসারাঙ্গা। তাকে ফিরিয়ে তাসকিন আহমেদ পেলেন চতুর্থ উইকেটের দেখা।

ফুল লেংথ বল সোজা ব্যাটে উড়িয়ে মারেন হাসারাঙ্গা। কিন্তু মারে যথেষ্ট জোর হয়নি। লং অন সীমানায় ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এমনিতে অনেক আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হলেও এই ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ২১ বলে রান কেবল ১৮।

৪৮.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ২৬৬।

ওয়ানডেতে তাসকিন সবশেষ চার উইকেট পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই, ২০১৭ সালের মার্চে।

রান আউটে বিদায় ডিকভেলার

দলে ফেরা খুব একটা সুখকর হলো না নিরোশান ডিকভেলার। ঝুঁকিপূর্ণ রান নেওয়ার চেষ্টায় শরিফুল ইসলামের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে গেলেন এই ব্যাটসম্যান। কুসল পেরেরার পর বিপজ্জনক আরেকজনকে ফেরাতে পারল বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার রান ৪২.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩১।

অবশেষে পেরেরার বিদায়

তিন দফায় জীবন পেয়ে অবশেষে আউট হলেন কুসল পেরেরা। লঙ্কান অধিনায়ককে ১২০ রানে থামাল বাংলাদেশ।

৯৯ রানে তার সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি যিনি, সেই মাহমুদউল্লাহই এবার দারুণ ক্যাচে ফেরালেন তাকে।


শরিফুলের লেংথ বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে টাইমিং ঠিকমতো করতে পারেননি পেরেরা। মিড অফ থেকে পেছনে দিকে বেশ খানিকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভে দুই হাতে বল মুঠোবন্দী করেন মাহমুদউল্লাহ।

১২২ বলে ১২০ রান করে আউট হলেন পেরেরা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে তার জুটি শেষ হলো ৬৫ রানে। ৩৯.২ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ৪ উইকেটে ২১৬।

উইকেটবিহীন মিরাজ

প্রথম দুই ম্যাচে সাত উইকেট শিকার করে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে উঠে আসা মিরাজ শেষ ম্যাচে পেলেন না উইকেটের দেখা। তার বোলিং ফিগার ১০-০-৪৮-০।

জুটির ফিফটি, শ্রীলঙ্কার ২০০

কুসল পেরেরা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দলের রান ২০০ স্পর্শ করল ৩৬ ওভারে। পরের বলেই দুজনের জুটিতে পূর্ণ হলো পঞ্চাশ।

৬৬ বলে এলো এই জুটির ফিফটি। তাতে পেরেরার অবদান ৩১, ধনাঞ্জয়ার ১৭।

৯৯ রানে জীবন ও সেঞ্চুরি

উৎকণ্ঠা, স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস, দুই বলের মধ্যে নানা অনুভূতির খেলায় ভাসলেন কুসল পেরেরা। তাকে আবারও আউট করার সুযোগ ছাড়ল বাংলাদেশ।

৯৯ রানে মুস্তাফিজের স্লোয়ার বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ তুলে দেন পেরেরা। ফিল্ডার মাহমুদউল্লাহ বুঝে উঠতে দেরি করেন একটু। তার পরও বলের নিচে চলে যেতে পেরেছিলেন, কিন্তু ডাইভ দিয়ে বল জমাতে পারেননি হাতে। সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান পেরেরা।

পরের বলেই সিঙ্গেল নিয়ে তিনি পূরণ করেন সেঞ্চুরি। ৯৯ বলে স্পর্শ করলেন তার ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

রিভিউয়ে টিকলেন ধনাঞ্জয়া

তাসকিন আহমেদের দারুণ এক ডেলিভারিতে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। তবে বাংলাদেশের সেই উল্লাস দীর্ঘায়িত হলো না বেশি।

লেংথ থেকে তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢোকা বল লাগে ব্যাটসম্যানের প্যাডে। একটু ভেবে রিভিউ নেন ধনাঞ্জয়া। রিভিউয়ে দেখা যায়, বল চলে যেত স্টাম্পের বেশ ওপর দিয়ে।

ধনাঞ্জয়ার রান তখন ১।

জুটি ভাঙলেন তাসকিন

দুই দফায় ক্যাচ দিয়ে কুসল পেরেরা বেঁচে গেলেও রক্ষা পেলেন না কুসল মেন্ডিস। তাকে ফিরিয়ে তাসকিন আহমেদ ধরলেন তৃতীয় শিকার।

তাসকিনের সেটি নতুন স্পেলের প্রথম বল। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট অব লেংথ বল পুল করার চেষ্টা করেছিলেন মেন্ডিস। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় মিড অফে। সহজ ক্যাচটি নেন তামিম ইকবাল।

৩৬ বলে ২২ রানে আউট মেন্ডিস। থামল পেরেরার সঙ্গে তার ৬৯ রানের জুটি।

আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া

আবার সাকিব, আবার পেরেরা, আবারও সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের।

ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে সাকিবকে উড়িয়ে মারেন পেরেরা। বলের পিচ পর্যন্ত যেতে পারেননি, হয়নি টাইমিং। বল উঠে যায় ওপরে। শর্ট মিড উইকেট থেকে আফিফ হোসেন লং অনের দিকে ছুটে ব্যর্থ হন বলের ফ্লাইট বুঝতে। ডাইভ দিয়েও নাগাল পাননি বলের।

৭৯ রানে রক্ষা পেলেন পেরেরা।

কুসল জুটির ফিফটি

তাসকিনের দুই উইকেটের পর শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে নিচ্ছেন দুই কুসল-পেরেরা ও মেন্ডিস। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে মেন্ডিসের ছক্কায় জুটির ফিফটি আসে ৬৭ বলেই।

জুটিতে অধিনায়ক পেরেরার রান ৩০, সহ-অধিনায়ক মেন্ডিসের রান ১৯।

৩২ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ২ উইকেটে ১৪৫। ৭৭ রানে খেলছেন পেরেরা।

সুযোগ হাতছাড়া

কুসল পেরেরাকে আউট করার একটি সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে কঠিন ক্যাচটি নিতে পারেননি মুস্তাফিজ।

সাকিব আল হাসানের বলে রিভার্স সুইপ করেন পেরেরা। মারে জোর ছিল বেশ। শর্ট থার্ড ম্যানে মুস্তাফিজ শূন্যে ঝাঁপিয়ে বলে আঙুল স্পর্শ করতে পারলেও ক্যাচ নিতে পারেননি। পেরেরার রান তখন ৬৬।

শ্রীলঙ্কার একশ

অধিনায়কের ফিফটি ছোঁয়ার ওভারেই দলের রান স্পর্শ করল একশ। তাসকিনের বলে পেরেরার বাউন্ডারিতে ১৬ ওভারে পূর্ণ হয়েছে দলের শতরান।

পেরেরার ফিফটি

জোড়া ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কুসল পেরেরা। সেই পরিক্রমায় পেরিয়েছেন ব্যক্তিগত মাইলফলক। পেয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ফিফটির দেখা।

৮ চারে ৪৩ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি, তার ক্যারিয়ারের এটি ১৫তম ফিফটি।

তাসকিনের দ্বিতীয় উইকেট

আরেকটি উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। কট বিহাইন্ড করে পাথুম নিসানকাকে ফিরিয়ে দিলেন তাসকিন আহমেদ।

তার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে পড়ে একটু ভেতরে ঢোকা বল কাভারে খেলতে চেয়েছিলেন নিসানকা। শট খেলায় একটু মন্থর ছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে।

চার বলে শূন্য রানে ফিরেন নিসানকা। ওয়ানডেতে তিনি তাসকিনের ৫০তম শিকার।


৩৯ ইনিংসে উইকেটের ফিফটি হলো তাসকিনের। এই সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে তার চেয়ে কম ইনিংসে ৫০ উইকেট পেয়েছেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান (২৭) ও আব্দুর রাজ্জাক (৩২)।

১২ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ২ উইকেটে ৮২। ক্রিজে অধিনায়ক কুসল পেরেরার সঙ্গী সহ-অধিনায়ক কুসল মেন্ডিস।

বিপজ্জনক জুটি ভাঙলেন তাসকিন

লাইন, লেংথ নিয়ে বেশ ভুগছিলেন তাসকিন আহমেদ। তবে তার হাত ধরেই এলো প্রথম সাফল্য। দানুশকা গুনাথিলাকাকে বোল্ড করে এই পেসার থামালেন বিপজ্জনক জুটি।

অফ স্টাম্পের বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে মিডউইকেট দিয়ে খেলার চেষ্টায় ঠিক মতো পারেননি গুনাথিলাকা। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ৬৮ বল স্থায়ী ৮২ রানের জুটি।

৩৩ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রান করেন গুনাথিলাকা।

শ্রীলঙ্কার পাওয়ার প্লে

সিরিজে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে উইকেটের দেখা পেল না বাংলাদেশ। পেরেরা ও গুনাথিলাকা দারুণ ব্যাটিংয়ে শুধু উইকেটই ধরে রাখলেন না, শ্রীলঙ্কাকে এনে দিলেন দ্রুত রানও।

আগের দুই ম্যাচের তুলনায় উইকেটও অবশ্য ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো মনে হচ্ছে। বল ব্যাটে আসছে দারুণভাবে, বাউন্সও ভালো।

১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৭। দুই দল মিলিয়েই সিরিজের সেরা উদ্বোধনী জুটি এটি।

দুই লঙ্কান ওপেনারই ছুটছেন প্রায় একই গতিতে। কুসল পেরেরা খেলছেন ৩৩ বলে ৩৮ রানে, দানুশকা গুনাথিলাকা ২৭ বলে ৩৮।

শ্রীলঙ্কার পঞ্চাশ

শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারকে আটকে রাখার পথ পাচ্ছে না বাংলাদেশের বোলাররা। ৬.৪ ওভারেই দলের রান স্পর্শ করেছে পঞ্চাশ। পেরেরার অবদান তাতে ৩১, গুনাথিলাকার ১৯।

আগ্রাসী শুরু লঙ্কানদের

বাউন্ডারিতে ম্যাচের শুরু, তৃতীয় বলে আরেকটি। শরিফুল ইসলামের তিন বলে দুটি বাউন্ডারিতে শুরু করেন দানুশকা গুনাথিলাকা। শরিফুলের পরের ওভারে দুটি বাউন্ডারি মারেন কুসল পেরেরা।

নতুন বলে শরিফুলের সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথম ওভারটি করেন নিয়ন্ত্রিত। তবে তার দ্বিতীয় ওভার থেকে আসে ৮ রান।

ম্যাচের পঞ্চম ওভারেই আরেক স্পিনারকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার ওভার থেকেও পেরেরার ব্যাটে আসে দুটি বাউন্ডারি।

৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৬। পেরেরা খেলছেন ২৩ বলে ২৭ রানে, গুনাথিলাকা ৯ রানে।

লঙ্কান একাদশে চার পরিবর্তন

২০২৩ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এই সিরিজের জন্য নতুনভাবে পথচলা শুরু করা শ্রীলঙ্কা একাদশে পরিবর্তন এনেছে চারটি। তাদের মধ্যে অভিষেক তিনজনের।

অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার রমেশ মেন্ডিস, দুই পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ও চামিকা করুনারত্নে খেলছেন প্রথম ওয়ানডে। তিনজনই অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছেন আগে। মেন্ডিস খেলেছেন দুই টেস্ট, করুনারত্নে একটি। ফার্নান্দো খেলেছেন দুটি টি-টোয়েন্টি। এছাড়াও একাদশে ফিরেছেন আগ্রাসী কিপার-ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকভেলা।

আগের ম্যাচ থেকে জায়গা হারিয়েছেন আশেন বান্দারা, ইসুরু উদানা, দাসুন শানাকা ও লাকশান সান্দাক্যান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: কুসল পেরেরা (অধিনায়ক), দানুশকা গুনাথিলাকা, পাথুম নিসানকা, কুসল মেন্ডিস, নিরোশান ডিকভেলা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, রমেশ মেন্ডিস, চামিকা করুনারত্নে, বিনুরা ফার্নান্দো, দুশমন্থ চামিরা।

লিটনের বদলে নাঈম

টানা আট ম্যাচের ব্যর্থতার পর দলে জায়গা হারিয়েছেন লিটন দাস। তার জায়গায় একাদশে এসেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে না থাকলেও শেষ ওয়ানডের জন্য স্কোয়াডে যোগ করা হয় বাঁহাতি ওপেনারকে। বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনজনই হবেন তাই বাঁহাতি।

দ্বিতীয় ওয়ানডের শুরুর একাদশ থেকে শেষ ম্যাচের বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আছে আরেকটি। ওই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটে বল লাগার পর মাঠ ছেড়ে যাওয়া মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। তার কনকাশন বদলি হিসেবে ওই ম্যাচে বোলিং করা তাসকিন আহমেদ আছেন এবার মূল একাদশেই।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।

টসে হাসি পেরেরার

টানা দুই ম্যাচে টস হারার পর শেষ ম্যাচে ভাগ্যকে পাশে পেলেন কুসল পেরেরা। টস জিতে লঙ্কান অধিনায়ক বেছে নিয়েছেন ব্যাটিং।

আবার আলোর রেখা

যেভাবে বদলে গিয়েছিল আবহাওয়া, ততটাই দ্রুত আবার কেটে যাচ্ছে মেঘ। আবার দেখা মিলেছে রোদের। সরানো হচ্ছে কাভার। নতুন করে চিত্র না বদলালে টস হতে দেরি হবে না খুব বেশি।

হঠাৎ বদলে গেল মিরপুর

সকাল থেকে মিরপুর ছিল রোদ ঝলমলে। সূর্যের তাপ ছিল প্রখর। টসের মিনিট বিশেক আগে হুট করেই বদলে যেতে থাকে চিত্র। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। বইতে থাকে তীব্র বাতাস।

বৃষ্টি অবশ্য শুরু হয়নি এখনও। তবে আপাতত ঢেকে রাখা হয়েছে উইকেট ও চারপাশ। পিছিয়ে গেছে টস।

হোয়াইটওয়াশ আর ১০ পয়েন্টের লড়াই

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের পর এবার বাংলাদেশের সামনে হাতছানি প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার। লঙ্কানদের লড়াই হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ বলে এসব সিরিজের চাওয়া-পাওয়ার সীমানা এখন অনেক বিস্তৃত। প্রতিটি ম্যাচই এখন পয়েন্ট প্রাপ্তি আর বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। দুই দলই মরিয়া থাকবে সেই ১০ পয়েন্টের জন্য।

৫ ম্যাচ খেলে সুপার লিগে এখনও পয়েন্টের দেখা পায়নি শ্রীলঙ্কা। তাদের তাড়না তাই অনুমিতই। ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের অবস্থান আরও সংহত করবে শেষ ম্যাচের জয়।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top