দ. কোরিয়ায় সাড়া ফেলেছে বাংলাদেশি তরুণের তৈরি রোবট | প্রযুক্তি | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
প্রযুক্তি

দ. কোরিয়ায় সাড়া ফেলেছে বাংলাদেশি তরুণের তৈরি রোবট

অসীম বিকাশ বড়ুয়া, দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২১ ২৩:২১ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২১ ২৩:২৫

অসীম বিকাশ বড়ুয়া, দক্ষিণ কোরিয়া | প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২১ ২৩:২১


লাবিব তাজওয়ার রহমান ও তার তৈরি রোবট

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশি তরুণ লাবিব তাজওয়ার রহমান ও তার দুই সহযোগী মিলে একটি রোবট তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন। তাদের তৈরি রোবটটি মানুষের দোরগোড়ায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।

লাবিব সিউলের নিউবিলিটি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, রোবটটি অর্ডার করা খাবার রেস্টুরেন্ট থেকে সংগ্রহ করে হোম ডেলিভারি দেবে। ডেলিভারিম্যান যা করে, কোনো মানুষ ছাড়া এখন থেকে রোবটটিও তাই করবে। নিউবিলিটি মূলত রোবট তৈরি করে। আমাদের রোবটগুলো ডেলিভারি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। এ জন্য হুন্দাই মোটরসের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে নিউবিলিটি।

২০১৫ সালে লাবিব দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় পরিচয় হয় অ্যান্ড্রু লি ও সিউংহো চোর (নিউবিলিটি'র বাকি দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা) সঙ্গে। তারা তিনজন নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনরাড অ্যাওয়ার্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনজনেই ছিলেন ফাইনালিস্ট, আর এখান থেকেই তাদের বন্ধুত্বের যাত্রা শুরু হয়।

লাবিব বলেন, প্রতিযোগিতার পরেও বহুদিন পর্যন্ত আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। সবসময় ভাবতাম তিনজনে মিলে কিছু একটা উদ্ভাবন করা যায় কিনা! শেষ পর্যন্ত আমরা 'নিউবিলিটি' গড়ে তুললাম। প্রাথমিকভাবে আমরা গেমিংয়ে আনুষঙ্গিক বানানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। এই আইডিয়া নিয়ে আমরা কয়েক বছর কাজও করেছি। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বড় প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষ দ্বারা পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার বিকল্প খুঁজছিল।  দক্ষিণ কোরিয়ায় হোম ডেলিভারির বিশাল সেক্টর রয়েছে এবং দেশটিতে ই-কমার্সের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছিল। সেই থেকে আমরা ডেলিভারি রোবট বানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

লাবিবের সাফল্যের মধ্যে আরও রয়েছে, ইনক্লুশনএক্স নামে বাংলাদেশে একটি মেন্টাল হেলথ এন্ড ডিজ্যাবিলিটি ইনক্লুশন সার্ভিস। এছাড়া লাবিব স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ফিজিক্স সোসাইটির সহ-সভাপতি। 'স্ট্যানফোর্ড ডিজ্যাবিলিটি ল্যাঙ্গুয়েজ গাইড' নামক একটি বইও লিখেছেন তিনি। তারচেয়েও বড় ব্যাপার হল লাবিবের লেখা এই বই এখন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনে প্রদর্শিত রয়েছে এবং আমেরিকার বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বইটি তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

একজন বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে লক্ষ্য স্থির করে কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের বিকল্প নেই।

 

এ কে




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top