বাংলাদেশিরাই নয়, সুইস ব্যাংকে টাকা রাখতেন হিটলারও | সারাবিশ্ব | Aporup Bangla | বাংলার প্রতিধ্বনি
ঢাকা | শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
সারাবিশ্ব

বাংলাদেশিরাই নয়, সুইস ব্যাংকে টাকা রাখতেন হিটলারও

অপরূপবাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১ ১৬:৫৩ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২১ ১৪:২৬

অপরূপবাংলা ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১ ১৬:৫৩


ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক-এসএনবি’র বার্ষিক প্রতিবেদনে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের একটি তথ্য উঠে এসেছে। এতে জানানো হয়েছে, করোনাকালে গত ১ বছরে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা টাকা ৭ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সাল শেষে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ আগের বছরের ৬০ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক থেকে কমে ৫৬ কোটি ২৯ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক হয়েছে।

সারা পৃথিবীতে ধনী ব্যক্তিদের টাকা সুইস ব্যাংকে রাখার আগ্রহের পেছনে মূল কারণ দেশটির গোপনীয়তার নীতি।

জার্মানিতে নাৎসি দল ও হিটলারের উত্থান এবং তার ইহুদিবিরোধী মনোভাব সুইস ব্যাংকগুলোর ব্যবসা আরও বাড়িয়ে দেয়। সুইস ব্যাংকগুলো এ সময় নাৎসিদের হাত থেকে ইহুদিদের সম্পদ রক্ষার কাজটি করে। অবশ্য এর সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ধনী ইহুদিরা তাঁদের সম্পদ সুইস ব্যাংকগুলোতে রাখা শুরু করেন। আবার একই সঙ্গে তাঁরা নাৎসি ও তাঁদের সহযোগীদের অর্থ এবং সোনা মাটির নিচে ভল্টে রাখার ব্যবস্থাও নেন।

বলা হয়, ইহুদি নিধনের আগে নাৎসি নেতারা তাদের সম্পদ কেড়ে নিয়ে সুইস ব্যাংকগুলোতে লুকিয়ে রাখতেন। এমনকি সুইস ব্যাংকে রাখা সম্পদ নিজের নামে জোর করে লিখিয়ে নিয়েছিলেন অনেক নাৎসি প্রভাবশালী সদস্য।

অ্যাডলফ হিটলারও ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ডে (ইউবিএস) অর্থ রেখেছিলেন। এর পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি রেইচমার্ক (সে সময়ে জার্মানির মুদ্রা, ১৯৪৮ সালে তা বদলে ডয়েসমার্ক হয়)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইহুদিদের সম্পদ উদ্ধারে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হলে চাপ বাড়ে সুইস ব্যাংকগুলোর ওপর। এর ধারাবাহিকতায় নব্বইয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হিটলারের জমা রাখা অর্থ ফেরত চায়। ইউবিএস ৭০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ফেরতও দেয়। মালিকানা না থাকলে এবং তা জব্দ করা হলে কী পরিমাণ অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন আছে। বলা হয়, নাৎসিবিরোধীদের সম্পদ রক্ষা করছে বলে হিটলার ১৯৪০ সালে সুইজারল্যান্ড দখল করার কথাও ভেবেছিলেন। যদিও পরে তা আর কার্যকর করেননি।

ক্রিস্টোফ মেইলি এক সময় ইউবিএসের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন।

১৯৯৭ সালে তিনি হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে তথ্য দেন যে ব্যাংকটি ইহুদি গণহত্যা বা হলোকস্ট সময়ের সব ধরনের নথি পুড়িয়ে ফেলেছিল, যাতে গচ্ছিত সম্পদের মালিকানার প্রমাণ না থাকে। এ নিয়ে একাধিক মামলা হলে হত্যার শিকার ইহুদিদের পরিবারের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসতে হয়। এ জন্য ইউবিএসকে ১২৫ কোটি ডলার দিতে হয় আর ক্রিস্টোফ মেইলি পান সাড়ে সাত লাখ ডলার।

এদিকে, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকার বেশি অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা করেছেন বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে জমার পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন অন্তত ৫শ কোটি টাকা হতে হয়। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা এখন জমা আছে, তা অন্তত ১০টি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সমান।

সুইজারল্যান্ডের আইনে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। টাকার উৎসও তারা জানতে চায় না। তবে কোন দেশের গ্রাহকদের কী পরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা আছে, তার একটি ধারণা প্রতিবছর এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে এসএনবি ওই তথ্য প্রকাশ করে। তবে সেখানে গ্রাহকের বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায় না।

দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য হল, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা জমা রয়েছে, তার বেশিরভাগটাই অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top